বিশেষ প্রতিনিধি, Akther Hossan Saddam।।
জমিজমা সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধের জের ধরে গোপালগঞ্জে প্রতিপক্ষের আচমকা হামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (৯ আগস্ট) রাতের দিকে গোপালগঞ্জ জেলা শহরের মৌলভীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা
ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত মো. আতিকুর রহমান হামিম (৩১), তাঁর বড় ভাই মো. আশিকুর রহমান মিনার (৩৩), স্থানীয় তরুণ তাজবির শেখ (২৩) এবং রিফাত হাসান উজ্জ্বল (৩৩)। আহতদের মধ্যে
আতিকুরসহ তিনজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শামসুল আলম মিটুর পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী বতু দাঁড়িয়ার মধ্যে জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল। ওই দিন সকালে নতুন ঘর তৈরির কাজ শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও
হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিকেলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সাময়িকভাবে সমাধান করে দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, সালিশ শেষ হওয়ার পরপরই বতু দাঁড়িয়ার ছেলে রাজিব দাঁড়িয়ার শ্যালক সোহানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মিটুর পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের রামদা ও লাঠিসোঁটার
আঘাতে ছুটিতে থাকা পুলিশ সদস্য আতিকুর, তাঁর ভাই এবং রক্ষায় এগিয়ে আসা দুই প্রতিবেশী রক্তাক্ত হন।
এ বিষয়ে ছুটিতে বাড়িতে থাকা পুলিশ সদস্য আতিকুর রহমান জানান, সকালে ঘর তোলার সময় বাধা দিলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছিল। কিন্তু সালিশিরা চলে যাওয়ার পরই সোহান ও তাঁর সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী হামলা চালায়। এ
ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তিনি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মৌলভীপাড়ার ঘটনার খবর পুলিশ পেয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই তদন্ত শুরু করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।