বিশেষ প্রতিনিধি, Akther Hossan Saddam।।
পাউরুটিতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার বন্ধে হাইকোর্টের রুল
পাউরুটি তৈরিতে বিষাক্ত রাসায়নিক পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মোড়কজাত পাউরুটির গায়ে ‘পটাশিয়াম ব্রোমেট মুক্ত’ লেখা বাধ্যতামূলক করার
বিষয়েও রুল দেওয়া হয়েছে।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে খাদ্য সচিব, বিএসটিআই মহাপরিচালক, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ
এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
যে প্রেক্ষাপটে এই আইনি পদক্ষেপ গত ১৮ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে ‘পাউরুটিতে মিলছে ক্যানসারের উপাদান’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেটির সূত্র ধরে ‘মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশন’-এর
পক্ষে রিট আবেদনটি করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান কবীর আলমগীর। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল ও জাহিদ তালুকদার।
বিশ্বের প্রায় ৪০টিরও বেশি দেশে এই ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ। বাংলাদেশে ২০২২ সালে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ পাউরুটি ও বেকারি খাদ্যে পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তা সত্ত্বেও বাজারে এর অনিয়ন্ত্রিত
ব্যবহার কমেনি।
কেন এই রাসায়নিক ক্ষতিকর? বিশেষজ্ঞদের মতে, পটাশিয়াম ব্রোমেট (KBrO3) মানবদেহে ক্যানসার ও থাইরয়েডের নানা জটিলতা তৈরি করে। এটি জেনোটক্সিক উপাদান হওয়ার কারণে জিনগত পরিবর্তন ও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ঘটায়। এ
ছাড়া এটি পাকস্থলীর নানা গোলযোগের জন্য দায়ী।
২০২১ সালে ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত ১৯টি পাউরুটির নমুনার মধ্যে ১৬টিতেই (৮৪ শতাংশ) উদ্বেগজনক মাত্রায় এই উপাদান পাওয়া গিয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৫ সালেও বেশ কিছু নমুনায় অতিরিক্ত মাত্রায় রাসায়নিকের
উপস্থিতি শনাক্ত করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
কেন এটি ব্যবহার করা হয়? অতীতে পাউরুটি ফুলিয়ে আকর্ষণীয় করতে ইস্ট বা খাবার সোডা ব্যবহার করা হলেও নব্বইয়ের দশক থেকে তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় অসাধু বেকারি মালিকরা এই বিষাক্ত উপাদানটি ব্যবহার শুরু করেন। ২০১৬
সালে বিএসটিআই সীমিত মাত্রায় এর ব্যবহারের অনুমতি দিলেও আন্তর্জাতিক গবেষণার আলোকের ২০১৮ সালে সেই অনুমোদন বাতিল করা হয়। বর্তমানে অপরিকল্পিতভাবে তৈরি এসব খাদ্যপণ্যের কারণে দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ
ক্যানসার ও কিডনিজনিত মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।