বিশেষ প্রতিনিধি, Akther Hossan Saddam।।
এমপিওভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, সেগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট জানান, সরকারের সব সুবিধা ভোগ
করার পর ফলাফলের এই করুণ অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে ‘সমৃদ্ধ অর্থনীতি বিনির্মাণে শিক্ষা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের বর্তমান শিক্ষা পরিস্থিতির সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত দুই দশকে শিক্ষা খাত অনেক পিছিয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে তা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এই ভঙ্গুর বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি
জানান, সরকার এখন বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার গলদ দূর করতে কাজ করছে।
বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা খাতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করেন:
নতুন বিশ্ববিদ্যালয় নয়: যত্রতত্র আর কোনো নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হবে না। সরকারের প্রধান লক্ষ্য এখন বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মান বৃদ্ধি করা।
ফলাফলের দায়ভার: জোর করে কাউকে পাস বা ফেল করানো যায় না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এসএসসি পরীক্ষার আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ার দায় কেবল শিক্ষার্থীদের নয়, এই দায় তিনি নিজেও নিচ্ছেন।
শিক্ষক সংকট ও আইনি জটিলতা: মানসম্মত শিক্ষকের তীব্র অভাব রয়েছে। ২০১৭ সালের মামলা নিষ্পত্তি করলেও নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং বর্তমানে ১৪ হাজার ৩০০ শিক্ষকের পদায়ন আটকে আছে। ঘন ঘন মামলার
কারণে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া ও শিক্ষাব্যবস্থা থমকে যাচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এনটিআরসিএ বিতর্ক: এনটিআরসিএ নিয়ে অসম্পূর্ণ তথ্য গণমাধ্যমে আসায় অহেতুক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে দাবি করে মন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে কেবল আলোচনা হয়েছে, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান: বর্তমান সরকারের অল্প সময়ের মধ্যে বারবার আন্দোলনে না নেমে যেকোনো দাবির বিষয়ে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান তিনি।