প্রিন্ট এর তারিখঃ | বঙ্গাব্দ || প্রকাশের তারিখঃ 16-08-2026 ইং
সংবাদ শিরোনামঃ কম ঘুম যেভাবে ডেকে আনছে হৃদরোগের ঝুঁকি
বিশেষ প্রতিনিধি, Akther Hossan Saddam।।
অতিরিক্ত কাজ বা ব্যস্ততার কারণে রাতের ঘুম কমানোকে আপাতদৃষ্টিতে সামান্য বিষয় মনে হলেও, এটি আপনার হৃদযন্ত্রের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছে। চিকিৎসকদের মতে, ধারাবাহিকভাবে রাতে অন্তত ছয় ঘণ্টার কম ঘুম দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ঘুম কেবল দৈহিক ক্লান্তি মেটানোর মাধ্যম নয়; কার্ডিওভাসকুলার বা সংবহনতন্ত্রকে স্বাভাবিক ও সচল রাখতে এটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। তাই দীর্ঘদিন অপর্যাপ্ত ঘুমের প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ে হৃদপিণ্ডের ওপর।
ছয় ঘণ্টার কম ঘুমের শারীরিক ঝুঁকি
উচ্চ রক্তচাপ: ক্রমান্বয়ে রক্তচাপ বৃদ্ধি পাওয়া।
করোনারি ধমনীর ব্যাধি: করোনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ানো।
অনিয়মিত হৃদস্পন্দন: হৃৎস্পন্দনের ছন্দপতন ঘটা।
স্ট্রোক: মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি।
টাইপ-২ ডায়াবেটিস: ইনসুলিন কার্যকারিতা ব্যাহত হয়ে ডায়াবেটিস হওয়া, যা হৃদরোগের ঝুঁকি আরও বাড়ায়।
স্থূলতা ও ওজন বৃদ্ধি: দ্রুত ওজন বেড়ে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়া।
চিকিৎসকদের এই সতর্কবার্তা বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত। আমেরিকান জার্নাল অফ প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলোজি-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে—ঘুমের ঘাটতির সঙ্গে হৃদরোগজনিত মৃত্যু, করোনারি ধমনীর জটিলতা এবং মেটাবলিক ঝুঁকির সরাসরি ও নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে।
হৃদপিণ্ডে অপর্যাপ্ত ঘুমের ক্ষতিকর প্রভাব
গভীর ঘুমের সময় আমাদের শরীরের রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমে আসে, যা হৃদপিণ্ডকে বিশ্রাম দেয়। কিন্তু ঘুম কম হলে রক্তচাপ কমার এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে দেখা দেয় দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপ।
এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীরে ‘কর্টিসল’-এর মতো স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা ধমনী ও হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক ক্রিয়া ব্যাহত করে। পাশাপাশি ঘুম কম হলে রক্তনালীতে প্রদাহের (ইনফ্লামেশন) মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা ধমনীর স্থায়ী ক্ষতি করে হৃদরোগ ত্বরান্বিত করে।