বিশেষ প্রতিনিধি, Akther Hossan Saddam।।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বহুল আলোচিত দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে এক চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের আকর্ষনীয় ও লাভজনক সম্প্রচারস্বত্ব নিজেদের কবজায় নিতে ফুটবল কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়ার কথা আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনার দুই ক্রীড়া বিপণন নির্বাহী।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি-র প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে, আইনি ঝামেলা ও দীর্ঘমেয়াদি সাজা এড়াতে মার্কিন কৌঁসুলিদের (US Prosecutors) সঙ্গে একটি বিশেষ সমঝোতা চুক্তির আওতায় গত বৃহস্পতিবার আদালতে অপরাধ স্বীকার করেন তাঁরা।
অভিযোগ ও বিচারিক সমঝোতার বিস্তারিত:
অভিযুক্ত ব্যক্তিদ্বয়: অভিযুক্ত দুজন সম্পর্ক অনুযায়ী বাবা ও ছেলে—হুগো জিনকিস (Hugo Jinkis) এবং মারিয়ানো জিনকিস (Mariano Jinkis)। তাঁরা আর্জেন্টিনার প্রখ্যাত ক্রীড়া বিপণন প্রতিষ্ঠান ‘ফুল প্লে’ (Full Play)-এর সহ-মালিক।
যে অপরাধ স্বীকার করেছেন: ফিফা, উত্তর আমেরিকা (CONCACAF) ও দক্ষিণ আমেরিকান (CONMEBOL) ফুটবল কনফেডারেশনকে প্রতারিত করার নীল নকশা তৈরি এবং কোটি কোটি ডলারের অবৈধ লেনদেনের কথা স্বীকার করেছেন তাঁরা।
জরিমানা ও চুক্তির শর্ত: সমঝোতা অনুযায়ী জিনকিস বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে থাকা মূল জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এর বিনিময়ে প্রায় ৫ কোটি ডলার (৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অর্থ বাজেয়াপ্ত করার শর্তে রাজি হয়েছেন দুই নির্বাহী।
ঘুষের উদ্দেশ্য: বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব এবং ঐতিহ্যবাহী ‘কোপা আমেরিকা’র মতো হাই-প্রোফাইল টুর্নামেন্টগুলোর সম্প্রচার ও বিপণন অধিকার নিজেদের প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নিশ্চিত করতেই উচ্চপদস্থ কর্তাদের ঘুষ দেওয়া হতো।
এক নজরে ফিফা দুর্নীতি মামলার আপডেট:
| বিষয় | বিবরণ ও তথ্য |
| অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ | হুগো জিনকিস ও মারিয়ানো জিনকিস (ফুল প্লে-এর সহ-মালিক)। |
| তদন্ত শুরু ও সূত্রপাত | ২০১৫ সালের জুরিখ অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ তদন্ত। |
| অপরাধের ধরণ | সম্প্রচারস্বত্ব পেতে কোটি কোটি ডলারের অবৈধ বাণিজ্যিক ঘুষ দেওয়া। |
| সমঝোতার জরিমানা | ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৫০ লাখ ডলার বাজেয়াপ্ত)। |
| তদন্তকারী সংস্থা/আদালত | মার্কিন বিচার বিভাগ ও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। |
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফা হেডকোয়ার্টারে আকস্মিক অভিযানের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই মেগা তদন্তে ইতোপূর্বে বিশ্ব ফুটবলের বহু শীর্ষ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন।