বিশেষ প্রতিনিধি, Akther Hossan Saddam।।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দশকের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য পথচলার আনুষ্ঠানিক ইতি টানলেন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। তবে তাঁর এই বিদায় ছিল চিত্রনাট্যের মতো নাটकीय ও আবেগঘন। বিদায়বেলায় তিনি ভক্তদের জন্য রেখে গেছেন একটি স্মারক ভিডিও এবং হাতে লেখা তিন পৃষ্ঠার এক বিশেষ বার্তা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসির বিদায়ি চিঠির ছবি এখন আলোচনার তুঙ্গে, যার প্রতিটি উপাদানে লুকিয়ে রয়েছে গভীর তাৎপর্য।
চিঠিতে লুকানো হ্যারি পটারের ‘টাইম-টার্নার’ রূপক নোটপ্যাডের ছেঁড়া পাতার ওপর রাখা একটি বিশেষ সোনালি রঙের কলম ভক্তদের সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে। কলমটি কোনো সাধারণ কলম নয়—এর ওপরে রয়েছে ‘হ্যারি পটার’ সিরিজের কাল্পনিক বস্তুর আদলে তৈরি ‘টাইম-টার্নার’ এবং ছোট একটি বালুঘড়ি।
সংকেত: হ্যারি পটারের জগতে ‘টাইম-টার্নার’ যেমন সময়কে পেছনে নিয়ে যায়, মেসি যেন রূপক অর্থে সেই কলম দিয়ে স্বাক্ষর করে তাঁর ২০ বছরের ক্যারিয়ারে অর্জিত হতাশা, সমালোচনা এবং পরবর্তীতে ২০২১ কোপা আমেরিকা ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের মধুর স্মৃতিতে সবাইকে এক মুহূর্তের জন্য ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন।
তিন পৃষ্ঠায় আঁকা আবেগ ও আত্মত্যাগ একটি সাধারণ নোটপ্যাডের তিনটি পাতায় কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই মন খুলে কালো কালিতে নিজের কথাগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি।
প্রথম পাতা: নিজের সর্বোচ্চ উজাড় করে দেওয়ার কথা জানিয়ে মেসি লিখেছেন, “আমি আমার সবটুকু দিয়েছি... নিজেকে একদম খালি করে দিয়েছি, আমার মধ্যে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।”
দ্বিতীয় পাতা: দীর্ঘ ২০ বছরের এই যাত্রায় সতীর্থ, পরিবার, কোচ ও কোটি ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তৃতীয় পাতা: শেষ পাতায় তিনি প্রকাশ করেছেন খাঁটি স্বদেশপ্রেম—“আমাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ! এগিয়ে যাও আর্জেন্টিনা!”
ন্যাপকিন পেপার থেকে নোটপ্যাডের ৩ পাতা ফুটবলপ্রেমীরা স্মরণ করছেন মেসির ক্যারিয়ারের শুরুর সেই ঐতিহাসিক অধ্যায়—যখন বার্সেলোনার সাথে একটি সাধারণ ন্যাপকিন পেপারে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন এই জাদুকর। সূচনাটা যেভাবে ন্যাপকিনে হয়েছিল, ২০ বছর পর বিশ্বজয়ী হিসেবে তাঁর বিদায়ি অধ্যায়টি একটি সাধারণ নোটপ্যাডের ৩টি পাতা আর বিশেষ কলমে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে রইল।