বিশেষ প্রতিনিধি, Akther Hossan Saddam।।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) দেশের অন্যতম জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট। তাই ভবিষ্যতে যেন বিপিএল নিয়মিত আয়োজন করা হয়, সে বিষয়ে নজরদারি করার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
চলতি বছর বিপিএল হচ্ছে না। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য এবার পর্যাপ্ত সময় নেই। তাড়াহুড়ো করে আয়োজন না করে আগামী আসর আরও পরিকল্পিতভাবে করার কথা ভাবছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গত কয়েকটি আসরের আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
গত দুই আসরে বিপিএল আয়োজন করে বিসিবির বড় অঙ্কের লোকসান হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের আর্থিক দায়বদ্ধতা, চুক্তির শর্ত, ব্যাংক গ্যারান্টি ও খেলোয়াড়দের পাওনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই এবার তাড়াহুড়ো না করে টুর্নামেন্টের কাঠামো আরও গোছানোর দিকে যেতে চায় বিসিবি।
বিপিএল আয়োজন না হওয়া নিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শহীদ সোহরাওয়ার্দী মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘বিপিএলটা যেহেতু অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি টুর্নামেন্ট আমাদের বাংলাদেশের জন্য। আপনি বলছেন যে বিসিবি সভাপতি যৌক্তিক কিছু কারণ তুলে ধরেছেন। আমার কাছে মনে হয় এই ধরনের টুর্নামেন্টগুলো প্রতিবছর হওয়া উচিত। কেন বিপিএল হচ্ছে না, আমার মনে হয় কথা বলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের খেলাগুলো যেন নিয়মিত হয়, এই ব্যাপারে আমরা নজরদারি করবো।’
বিপিএল না হওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিসিবির সঙ্গে আমিনুলের কোনো আলোচনা হয়েছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অবশ্য কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, ‘আমি তো আপনাদের কাছ থেকে মাত্র শুনলাম (বিপিএল হচ্ছে না)। আমি তো জানতাম না যে তারা খেলবে না।’
এদিকে বিপিএল না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে ক্রিকেটারদের ওপর। দেশের অনেক ক্রিকেটারের জন্য এই টুর্নামেন্ট বড় আয়ের সুযোগ। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ ফি বাড়িয়েছে বিসিবি। প্রথম শ্রেণি, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি তিন ফরম্যাটেই ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। নারী ক্রিকেটেও বাড়ানো হয়েছে ম্যাচ ফি। পাশাপাশি নতুন একটি টুর্নামেন্টও মাঠে নামানোর পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এদিকে কোয়াবও বিসিবির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। বিসিবির পরিকল্পনা, এক বছর বিরতির পর আগামী বছর নতুন কাঠামোয় বিপিএল আয়োজন করা। আর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের বক্তব্যে সেই আয়োজন নিয়মিত করার বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।