নাহিদকে নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন থাকলেও বিষয়টি নিয়ে বেশ সতর্ক টেইট। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টেইট বলেন, ‘আধুনিক ক্রিকেটে— বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ফাস্ট বোলারদের মধ্যে নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় বল করার একটা প্রবণতা দেখা যায়। নাহিদের সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, সে বুদ্ধিমান ছেলে। এই মুহূর্তে ব্যাপারটাকে খুব বেশি জটিল না করে আমি মনে করি, সে যেভাবে বল করছে এবং তার জন্য যা কাজে দিচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে ভালো।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেও নাহিদ দেখিয়েছেন তার গতির ঝলক। ১০ ওভারের স্পেলে কেবল একটি বলই তিনি করেছেন ১৪০ কিলোমিটারের নিচে। শুধু গতি নয়, উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রেও দেখিয়েছেন বৈচিত্র্য। তার শিকার হওয়া পাঁচটি উইকেটের একটি ফুল লেংথ ডেলিভারিতে, তিনটি বাউন্সারে আর একটি নিখুঁত ইয়র্কারে।
টেইট বলেন, ‘তার ভান্ডারে স্লোয়ার বল আছে, কিন্তু যদি প্রয়োজন না পড়ে, তাহলে সেটা ব্যবহার করার দরকার নেই। অন্যদের যেখানে বাধ্য হয়ে গতির পরিবর্তন করতে হয়, নাহিদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন। তার বিধ্বংসী বাউন্সার আছে। অনেক বোলার, যারা ১৩০ কিলোমিটার গতিতে বল করেন, তাদের ও রকম বাউন্সার নেই। তাই স্লোয়ার বল ছাড়া তাদের উইকেট নেওয়ার সুযোগ কম থাকে।’
‘কিন্তু নাহিদ রানার ক্ষেত্রে বিষয়টা ঠিক উল্টো। বর্তমানে সে তার গতি আর বাউন্স ব্যবহার করে শর্ট বলে প্রচুর উইকেট পাচ্ছে। সে যথেষ্ট বুদ্ধিমান ছেলে; সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন কিছু শিখবে। তবে এই মুহূর্তে আমি চাই, সে বিষয়গুলোকে সহজ রাখুক এবং স্রেফ জোরে বল করে যাক।’
নাহিদ রানার টানা গতিময় বোলিংয়ে মুগ্ধ হয়েছেন টেইট। তার চোখে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নাহিদ এক মূল্যবান সম্পদ। তরুণ এই পেসারকে ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সেটিও স্পষ্টভাবে অনুভব করছেন তিনি। নিজের খেলোয়াড়ি জীবনে টেইটও ছিলেন ভয়ংকর গতির বোলার। তাই নাহিদকে দেখে কি তার পুরোনো দিনের স্মৃতিগুলোও ভেসে ওঠে।