1. [email protected] : admi2019 :
info@deshertvusa.tv +8801979-343434
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি আন্তজাতিক খেলা বিনোদন প্রবাস আরও

ভারতে এখন প্রলেপ দেওয়া সোনার কদর, উচ্চ মূল্যের প্রভাব

প্রতিবেদনঃ অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইমঃ 25-04-2026 ইং
  • 41855 বার পঠিত
ad728

উজমা বশির বেশির ভাগ রাতেই মাথার পাশে ফোন রেখে ঘুমান। মাঝেমধ্যে ঘুম ভাঙে, তবে বার্তা দেখার জন্য নয়; বরং গ্রীষ্মে তাঁর বিয়ে, তাই তিনি সোনার দামে নজর রাখছেন।

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শ্রীনগরে এক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করেন ২৯ বছর বয়সী উজমা বশির। তাঁর ভাষ্য, সোনা শুধু অলংকার নয়; বরং সম্মানের প্রতীক। শ্বশুরবাড়িতে আপনার সম্পর্কে দৃষ্টভঙ্গি কী হবে, তা–ও অনেকটা নির্ভর করে এর ওপর। খবর আল জাজিরার

কিন্তু উজমার মাসিক আয় ১০০ ডলারের কম। তা সত্ত্বেও মা–বাবার ওপর চাপ না বাড়াতে নিজের উপার্জনেই বিয়ের গয়না কিনতে চান তিনি।

দক্ষিণ এশিয়ায় বিয়েশাদির অনুষ্ঠানে এখনো পিতৃতান্ত্রিক প্রথার প্রবল প্রভাব। সেখানে কনের বিয়ের সময় সোনা দেওয়ার রীতি দীর্ঘদিনের। এটি শুধু অলংকার নয়; বরং শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন, এমনকি সহিংসতার বিরুদ্ধে একধরনের সুরক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হয়। কেননা অনেক ক্ষেত্রে কনের পরিবারের কাছ থেকে বড় অঙ্কের পণ দাবি করা হয়।

উজমা বশির বলেন, ‘নারীর কাছে কতটা সোনা আছে, সেটা দিয়েই অনেক সময় তাঁর গুরুত্ব নির্ধারিত হয়। আমার জন্য মা–বাবা অনেক কিছুই করেছেন। কিন্তু আমি একটি আংটিও কিনতে পারছি না। এর দাম আমার প্রায় তিন মাসের বেতনের সমান।’

এ বছর সোনার রেকর্ড দামের কারণে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে গয়নার বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। ২৯ জানুয়ারি বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯৫ ডলারে উঠেছিল, বর্তমানে যা প্রায় ৪ হাজার ৮৬১ ডলারে নেমে এসেছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা ভোক্তা দেশ ভারতে সম্প্রতি অক্ষয় তৃতীয়া উৎসব উদ্‌যাপিত হয়েছে। এই সময় ১০ গ্রাম সোনার আগাম মূল্য দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৭০ ডলার, আগের বছরের তুলনায় যা ৬৩ শতাংশ বেশি।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতে স্বর্ণালংকারের চাহিদা আগের বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ কমেছে।

মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিয়ের পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন এসেছে। স্বর্ণকারেরা বলছেন, ক্রেতাদের বড় একটি অংশ এখন খাঁটি সোনার বদলে নকল গয়না, সোনার প্রলেপ দেওয়া অলংকার বা কম ক্যারেটের সোনা কিনছেন।

উজমা বশিরের মতো অনেকেই এখন ‘ওয়ান গ্রাম গোল্ড জুয়েলারি’ নামে নতুন ধারণা নিয়ে এসেছেন। বিষয়টি হলো, বেজ মেটাল বা সাধারণ ধাতুর ওপর ২৪ ক্যারেট সোনার পাতলা প্রলেপ দেওয়া হয়।

বিষয়টি তাঁর কাছে জীবন রক্ষাকারীর মতো বলে উল্লেখ করেন উজমা। বলেন, ‘এখন আমি বিয়ের দিন এটি পরতে পারব, কেউ আঙুল তুলতে পারবে না।’ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক পরিবার এখন এই পথ বেছে নিচ্ছে।

নয়াদিল্লির লক্ষ্মীনগরের বাসিন্দা ফাতিমা বেগম করোল বাগের ব্যস্ত বাজারে নকল গয়নার দোকানে ঘুরছেন। পাঁচ সন্তানের এই মা–ও এক গ্রাম সোনার গয়না খুঁজছেন।

‘নয়াদিল্লির মধ্যবিত্ত পরিবার কতটুকু সোনা কিনতে পারে’—প্রশ্ন করেন ফাতিমা বেগম। বলেন, ‘আমার ছোট মেয়ের বিয়ে। খরচ কমাতে আসল সোনার বদলে এক গ্রাম গয়না নিচ্ছি। বড় মেয়ের বিয়েতেও একই কাজ করেছি।’

ফাতিমা জানান, ১৯৯৬ সালে তাঁর বিয়ের সময় বাবা প্রায় ৬০ গ্রাম সোনা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন নিজের মেয়ের বিয়েত তার অর্ধেকও দিতে পারছেন না তিনি। বলেন, ‘কিছু পুরোনো গয়না আর কিছু এক গ্রাম গয়না দিয়েছি, যাতে লজ্জার মধ্যে পড়তে না হয়।’

মুম্বাইয়ের জাভেরি বাজারে তিন দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করেন স্বর্ণকার শিব যাদব। তিনি বলেন, বাজার এখন ক্রমেই কৃত্রিম গয়নার দখলে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘১০ জন ক্রেতার মধ্যে সোনা কেনেন একজন, বাকিরা নকল গয়না খোঁজেন। এত বড় পরিবর্তন আগে দেখিনি।’

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Whatsapp
  • Linkedin
  • প্রিন্ট নিউজ
  • কপি লিঙ্ক
এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728
ad728
ad728