1. [email protected] : admi2019 :
info@deshertvusa.tv +8801979-343434
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি আন্তজাতিক খেলা বিনোদন প্রবাস আরও
| বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দুর্নীতির বিস্তার, অভিযোগ পাসপোর্ট ডিজির বিরুদ্ধে

প্রতিবেদনঃ অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইমঃ 14-05-2026 ইং
  • 257 বার পঠিত
ad728

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারকে ঘিরে নানা বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক আনুগত্য বদলে নিজেকে কখনও আওয়ামীপন্থী, কখনও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনপন্থী, আবার বর্তমানে বিএনপিপন্থী জেনারেল হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে সবুজ পাসপোর্ট প্রদান, বিতর্কিত ব্যক্তিদের সহায়তা এবং ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মেরও অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার দিনের মাথায় তিনি টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে যান। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সে সময় তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের অভ্যন্তরে তাকে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবেই দেখা হতো।

তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দ্রুত অবস্থান বদল করেন বলে অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৫ আগস্টের পর থেকেই তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ তথা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ শুরু করেন বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রশাসনের ভেতরে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে তিনি তখন নতুন ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর আবারও রাজনৈতিক অবস্থান পাল্টানোর অভিযোগ ওঠে নূরুল আনোয়ারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিএনপির বিভিন্ন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করেন এবং নিজেকে বিএনপিপন্থী জেনারেল হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা চালান। সরকারের উচ্চপর্যায়ে আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত সমর্থিত ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আবদুল বাতেনকে নিজের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন ডিজি নূরুল আনোয়ার। ওই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেন তিনি। তবে নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা সুবিধা করতে না পারায় পরবর্তীতে তিনি নিজ এলাকার বিএনপির সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক অবস্থান পাল্টালেও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তাদের বহাল রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছেন ডিজি নূরুল আনোয়ার। ৫ আগস্টের পর প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে পরিবর্তন এলেও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত একাধিক কর্মকর্তা এখনও বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ডিজির প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও প্রভাবের কারণেই এসব কর্মকর্তা এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন।

শুধু রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন নয়, জুলাই বিপ্লবের পর একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর বাসায় গিয়ে পাসপোর্টের জন্য আঙুলের ছাপ ও ছবি সংগ্রহ করেন পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা, যা তার নির্দেশেই করা হয়েছিল। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

একইভাবে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সবুজ পাসপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি প্রশাসনের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।

এছাড়াও সাবেক প্রধান বিচারপতিকে সবুজ পাসপোর্ট প্রদান, লন্ডনের যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম কূটনৈতিক সুবিধাসংবলিত সবুজ পাসপোর্ট করে দেওয়া এবং ঢাকার এক সাবেক পুলিশ কমিশনারকে বিশেষ সুবিধার আওতায় সবুজ পাসপোর্ট দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিতর্কিত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী বহু কূটনৈতিক পাসপোর্টধারী ব্যক্তিকে সবুজ পাসপোর্ট প্রদান করে দেশত্যাগে সহায়তা করেছেন ডিজি নূরুল আনোয়ার। এসব ঘটনায় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে ব্যাপক। বিশেষ করে সরকারের ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে কয়েক হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সূত্র বলছে, শুরুতে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প হিসেবে নেওয়া ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের ব্যয় পরবর্তীতে বাড়িয়ে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে বর্তমান ডিজির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে অস্বচ্ছতা, অতিরিক্ত ব্যয় এবং সরঞ্জাম ক্রয়ে অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এড়িয়ে যান। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল কেটে দেন।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Whatsapp
  • Linkedin
  • প্রিন্ট নিউজ
  • কপি লিঙ্ক
এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728
ad728