1. [email protected] : admi2019 :
info@deshertvusa.tv +8801979-343434
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি আন্তজাতিক খেলা বিনোদন প্রবাস আরও

এক অদেখা ভাইব্র‍্যান্ট বাংলাদেশ ডানা মিলছে কারওয়ানবাজারের জনতা টাওয়ারে

প্রতিবেদনঃ অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইমঃ 07-08-2026 ইং
  • 11810 বার পঠিত
ad728

জাতীয় এআই ও জিপিইউ কম্পিউটিং হাবে রূপান্তর এবং বাংলাদেশের নতুন প্রযুক্তি দিগন্ত ​একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রযুক্তির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই)। এআই প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে প্রয়োজন বিশাল ডেটা প্রসেসিং ক্ষমতা এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং রিসোর্স। 

এই প্রেক্ষাপটে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত ‘জনতা টাওয়ার’কে একটি ‘জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও জিপিইউ কম্পিউটিং হাব’-এ রূপান্তরের সরকারি উদ্যোগটি বাংলাদেশের প্রযুক্তির ইতিহাসে একটি দূরদর্শী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। 

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের ঘোষিত এই উদ্যোগটি শুধু একটি ভবনকে নতুন রূপ দেওয়ার বিষয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ভিত্তিপ্রস্তর।

যা কিছু থাকবে বদলে যাওয়া জনতা টাওয়ারে :

​১. উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং অবকাঠামো

​কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং বড় ডেটা সেটের ওপর কাজ করার জন্য সাধারণ কম্পিউটার বা স্ট্যান্ডার্ড সার্ভার যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন হয় গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) চালিত হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটিং অবকাঠামো। এতদিন পর্যন্ত দেশের অনেক সম্ভাবনাময় গবেষক ও স্টার্টআপ কেবল পর্যাপ্ত ও ব্যয়বহুল জিপিইউ রিসোর্সের অভাবে বিশ্বমানের উদ্ভাবন তৈরি করতে গিয়ে থমকে যেতেন। জনতা টাওয়ারকে জাতীয় এআই ও জিপিইউ হাবে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থী, গবেষক, নতুন উদ্ভাবক এবং বেসরকারি খাত সরাসরি এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাবে। ফলে অর্থাভাব বা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে যে প্রতিভাবান তরুণরা পিছিয়ে পড়তেন, তাদের জন্য সম্ভাবনার এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো।

​২. বৈশ্বিক যৌথ উদ্যোগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি

​এই প্রকল্পের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শক্তিশালী দিক হলো বিশ্বের প্রযুক্তিপ্রযুক্তিতে শীর্ষস্থানীয় দুটি দেশ দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের সরাসরি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা লাভ। 

এখন বিশ্বজুড়ে ​দক্ষিণ কোরিয়া আধুনিক অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর এবং প্রযুক্তি বাস্তবায়নে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।

পিছিয়ে নেই জাপানও। দেশটি রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মৌলিক গবেষণায় প্রথম সারিতে।

​এই দুটি দেশের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় প্রকল্পটি পরিচালিত হওয়ায় প্রযুক্তি স্থানান্তরের (Technology Transfer) মাধ্যমে আমাদের স্থানীয় প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। বৈশ্বিক এই টেক-জায়ান্ট দেশগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা ও ভাবমূর্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

​৩. দেশীয় গবেষণা ও উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেমের লালন :

​একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নির্ভর করে তার মৌলিক গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ওপর। জনতা টাওয়ারের এই কম্পিউটিং হাব দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি কেন্দ্রীয় শক্তি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

​"কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর প্রযুক্তির স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে মৌলিক গবেষণার বিকল্প নেই। জিপিইউ হাব গবেষকদের জটিল অ্যালগরিদম ও ডেটা মডেল দ্রুত প্রসেস করার সুবিধা দেবে।"

​স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহারের মাধ্যমে নিখুঁত রোগ নির্ণয়, কৃষিতে আবহাওয়া পূর্বাভাস ও ফসল রক্ষা, এবং বাংলা ভাষার জন্য বৃহৎ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) তৈরির মতো জটিল কাজগুলো এখন দেশে বসেই দ্রুত গতিতে করা সম্ভব হবে।

​৪. স্টার্টআপ ও নতুন উদ্যোক্তাদের জয়যাত্রা :

​বাংলাদেশে বর্তমানে হাজার হাজার তরুণ উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ তৈরি হচ্ছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক সেবা বা প্রোডাক্ট তৈরি করার জন্য আন্তর্জাতিক ক্লাউড প্রোভাইডারদের থেকে জিপিইউ ভাড়ায় নেওয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল। জনতা টাওয়ারে সুলভে বা সরকারি সহায়তায় উচ্চ ক্ষমতার জিপিইউ হাবের সুবিধা পাওয়ায় স্টার্টআপগুলোর পরিচালনা খরচ (Operating Cost) নাটকীয়ভাবে কমে আসবে। এটি নতুন নতুন ‘টেক-স্টার্টআপ’ তৈরিতে উৎসাহ জোগাবে এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

​৫. অর্থনৈতিক রূপান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি :

​প্রযুক্তির চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যারা নেতৃত্ব দেবে, অর্থনৈতিকভাবে তারাই এগিয়ে থাকবে। এই হাব সৃষ্টির ফলে দেশের তরুণ সমাজ এআই মডেলিং, ডেটা সায়েন্স, নিউরাল নেটওয়ার্ক এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মতো হাই-টেক বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠবে। ফলে কেবল ফ্রিল্যান্সিং বা আংশিক আউটসোর্সিং নয়, বাংলাদেশ বিশ্ব বাজারে উচ্চমূল্যের মেধা ও এআই সার্ভিস রপ্তানি করতে সক্ষম হবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক আন্তর্জাতিক মানের হাই-টেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

​কারওয়ান বাজারের ‘জনতা টাওয়ার’ একসময় কেবল একটি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সেটিকে ‘জাতীয় এআই ও জিপিইউ কম্পিউটিং হাব’-এ রূপান্তরের সিদ্ধান্তটি পরিবর্তিত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার এক সাহসী ও সময়োপযোগী প্রয়াস। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো প্রযুক্তি পরাশক্তির সাহায্যে নির্মিতব্য এই হাব বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে নতুন প্রযুক্তির স্বপ্ন দেখতে এবং তা বাস্তবায়ন করতে শেখাবে। এটি কেবল একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়—এটি একটি স্বনির্ভর, উদ্ভাবনী এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি অন্যতম যুগান্তকারী মাইলফলক।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Whatsapp
  • Linkedin
  • প্রিন্ট নিউজ
  • কপি লিঙ্ক
এ জাতীয় আরো খবর..