1. [email protected] : admi2019 :
info@deshertvusa.tv +8801979-343434
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি আন্তজাতিক খেলা বিনোদন প্রবাস আরও

গ্যাসের প্রেশার কম, আড়াই ঘণ্টায় ৬০ টাকা! সংকটে অটোরিকশাচালকরা

প্রতিবেদনঃ স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট টাইমঃ 15-08-2026 ইং
  • 13422 বার পঠিত
ad728

গ্যাসের তীব্র সংকট ও অপর্যাপ্ত চাপের কারণে রাজধানীর পরিবহন খাতে হাহাকার পড়ে গেছে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি পুরো রাত ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করেও মিলছে না চাহিদামতো জ্বালানি।

দিনের বড় একটি অংশ গ্যাসের লাইনে আটকে থাকায় রাজপথের সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অ্যাপ-ভিত্তিক গাড়িচালকদের আয় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

ফলে চরম জীবন-জীবিকার সংকটে পড়ে ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ছেন তাঁরা।

আড়াই ঘণ্টায় মিলল স্রেফ ৬০ টাকার গ্যাস

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শ্যামলীর সাহিল ফিলিং স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চরম দুর্ভোগের কথা জানান যাত্রাবাড়ী থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আবুল বাশার।

সকাল সাড়ে আটটায় লাইনে দাঁড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষার পর কাকুতি-মিনতি করে দুই দফায় মাত্র ৬০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন তিনি। আবুল বাশার বলেন—

"প্রথম চাপে ৩০ টাকার গ্যাস পাইছিলাম। এত অল্প গ্যাসে এক ঘণ্টাও গাড়ি চলব না। আবদার কইরা আবার নিছি, মোট ৬০ টাকার পাইছি। যা পারি চলব, শেষ অইলে আবার লাইন ধরব।

তিন দিন ধইরা আয় নাই, অথচ প্রতিদিন মালিকের জমা ঠিকই দিতে অইব।"

বরিশালে থাকা স্ত্রী, তিন সন্তান ও বৃদ্ধ মায়ের মুখে খাবার তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বাশার। আয় না থাকায় এক মাস ধরে গ্রামে পরিবারকে টাকা পাঠাতে পারছেন না তিনি।

শ্যামলী থেকে গাবতলী: দীর্ঘ সারি ও নিভু নিভু প্রেশার

রাজধানীর শ্যামলী, কল্যাণপুর ও গাবতলীর অন্তত পাঁচটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে একই করুণ চিত্র দেখা গেছে।

কোথাও মধ্যরাত থেকে, আবার কোথাও ভোর থেকে অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও পিকআপ ভ্যানের কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ সারি।

স্টেশন কর্মচারীরা জানাচ্ছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় প্রেশার বা চাপ না পাওয়ায় তারা স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ করতে পারছেন না।

সাহিল ফিলিং স্টেশনের কর্মী আবদুল্লাহ জানান, চালকেরা বকশিসের লোভ দেখালেও চাপ না থাকায় তারা বেশি গ্যাস দিতে অপারগ।

ঘুম হারাম, খাবারের তালিকায় কেবল কলা-রুটি

কল্যাণপুরের খালেক ফিলিং স্টেশনের সামনে বাড্ডা থেকে আসা উবার চালক মোহাম্মদ বাবুলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এক নির্মম বাস্তবতার কথা।

রাতে লাইনে দাঁড়িয়ে সকালে যখন গ্যাসের কাছে পৌঁছান, তখনই বিকল হয়ে যায় স্টেশনের মেশিন।

বাবুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—

"১৫ দিন ধইরা রাতে ঘুমাইতে পারি না। দিনে গাড়ি চালাই, রাতে গ্যাসের লাইনে দাঁড়াই।

কাল রাতে ও সকালে কলা-রুটি খাইয়া আছি। এভাবে চললে গাড়ি বন্ধ কইরা রাস্তায় নামতে অইব।"

জমা ও ঋণের চাপে দিশেহারা চালকেরা

দৈনিক আয় কমলেও থামেনি চালকদের খরচ। অটোরিকশার মালিককে প্রতিদিনের নির্দিষ্ট জমা (১১০০-১২০০ টাকা) মেটাতেই ফুরিয়ে যাচ্ছে তাদের আয়।

গাবতলীর নন্দারবাগ ফিলিং স্টেশনের সামনে কুমিল্লার বাসিন্দা অটোরিকশাচালক শাহ আলম জানান, পরিবার চালাতে ও চালনা খরচ মেটাতে না পেরে ইতিমধ্যেই এনজিও বা স্থানীয় সমিতি থেকে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন তিনি।

চলতি মাসেও নতুন করে ঋণ না নিলে পরিবার অনাহারে থাকবে বলে জানান এই চালক।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Whatsapp
  • Linkedin
  • প্রিন্ট নিউজ
  • কপি লিঙ্ক
এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728
ad728
ad728