ভৈরব (কিশোরগঞ্জ): ফেলে দেওয়া পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য এখন আর পরিবেশের জন্য হুমকি নয়, বরং তা থেকে তৈরি হচ্ছে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও এলপিজি গ্যাস!
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এমনই এক পরিবেশবান্ধব ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ নিয়ে এসেছেন ইউসুফ আহমেদ গালিব নামের এক তরুণ উদ্যোক্তা।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের এই অভিনব প্রকল্পকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে উপজেলা প্রশাসন।
ভৈরব শহরের কালিপুর এলাকায় অবস্থিত ‘আহিল পেট্রোলিয়াম লিমিটেড’ নামের একটি কারখানায় বাণিজ্যিকভাবে এই জ্বালানি তৈরি করা হচ্ছে।
উদ্যোক্তা ইউসুফ আহমেদ জানান, থাইল্যান্ডের ‘সেপকো’ কোম্পানির প্রযুক্তি অনুসরণ করে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘এটুআই’ ও বিসিএসআইআরের
(বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ) পরামর্শে ২০১৮ সাল থেকে এই প্রযুক্তির ওপর কাজ শুরু করেন তিনি।
পাইরোলাইসিস (Pyrolysis) প্রক্রিয়ায় উচ্চ তাপমাত্রায় প্লাস্টিক গলিয়ে তরল ও গ্যাসে রূপান্তর করা হয়, যা ঘনীভূত করে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন আলাদা করা হয়।
বর্তমানে কারখানাটিতে প্রতিদিন এক টন প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার (রিফাইনিং) করে প্রায় ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল উৎপাদিত হচ্ছে।
প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় উৎপন্ন অতিরিক্ত গ্যাস কারখানার নিজস্ব জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি উপজাত হিসেবে অবশিষ্ট কালো কার্বন সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা দিয়ে ভবিষ্যতে প্রিন্টারের কালি তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।
বিসিএসআইআরের ল্যাব টেস্টেও এই মানসম্পন্ন তেলের ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে (যার মান ৯৩.৫৬ শতাংশ)। ২০১৯ সাল থেকে সীমিত পরিসরে এটি স্থানীয় বাজারেও বিক্রি হচ্ছে।
কারখানাটি পরিদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সারাদেশে পলিথিন যেখানে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাচ্ছে, সেখানে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।
তারা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতারও জোর দাবি জানান।উদ্যোগটির প্রশংসা করে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে. এম. মামুনুর রশীদ বলেন, "পলিথিন বর্জ্য আমাদের দেশের একটি বড় সমস্যা।
এটি নিয়ন্ত্রণে এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।" প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।