দীর্ঘ ৩৫ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গভবনের নতুন অভিভাবক হিসেবে জায়গা করে নিলেন বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত সভাপতি নির্বাচনের ভোটগণনায় তিনি জয়লাভ করেন।
নির্বাচনের মূল তথ্য ও ঘটনাপ্রবাহ:
ভোটের ফলাফল:
গণনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পান ৮৮টি ভোট।
ভোটিং পর্ব:
সংসদ ভবনে আয়োজিত এ ভোটিং প্রক্রিয়ায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শপথ ও পদত্যাগ:
আজ দুপুরে চিফ হুইপ জানান, রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পরপরই মির্জা ফখরুল তাঁর পূর্ববর্তী সকল পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের নিকট তিনি বঙ্গভবনের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন।
জীবন ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা:
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণকারী মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৭২ সালে বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে দীর্ঘ দিন অধ্যাপনা করেন।
পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব পদে কাজ করেন। ১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে এসে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালে তিনি বিএনপি ঠাকুরগাঁও জেলার সভাপতি হন।
২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের কৃষি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১১ সালে খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের প্রয়াণের পর দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব পান।