চাঁদপুরের হাইমচরে আদালতের নির্দেশে রিসিভার হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পাওয়া সরকারি এক মৎস্য ঘের থেকে নিয়ম না মেনে লাখ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, উন্মুক্ত নিলাম ছাড়া গত ১৫ আগস্ট ঘের থেকে ১২ থেকে ১৪ মণ মাছ তুলে বিক্রি করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা। তবে অভিযুক্ত ওসি দাবি করেছেন, মাছের পরিমাণ পরীক্ষা করতে জাল ফেলা হয়েছিল এবং মাত্র ৩০-৩২ হাজার টাকার মাছ পাওয়া যায়। এই অর্থ এখনও সরকারি কোষাগারে জমা না পড়ার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।
ঘটনার পটভূমি ও মূল অভিযোগসমূহ:
ঘেরের মালিকানা ও রিসিভার নিয়োগ: নীল কমল ইউনিয়নের মাঝের চরের সরকারি এই মৎস্য ঘেরটি দীর্ঘদিন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ভাই জে. আর. ওয়াদুদ টিপুর দখলে ছিল। জমিটি নিয়ে মামলা গড়ালে আদালত সম্পত্তিটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য হাইমচর থানার ওসিকে মাসিক ২ হাজার টাকা সম্মানিতে রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব দেন।
নিলাম ছাড়াই মাছ আহরণ: স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্ব পাওয়ার পর গত ১৫ আগস্ট ওসি নাজমুল হাসান নিজে উপস্থিত থেকে জেলেদের দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরান। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এ মাছ উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা করা হয়নি।
অভিযুক্ত ওসি ও উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য:
ওসির বক্তব্য: হাইমচর থানার ওসি মোহাম্মদ নাজমুল হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ঘেরে পোনা মাছের অবস্থা দেখতে জাল ফেলা হয়েছিল। পাওয়া সামান্য মাছ কমিটির মাধ্যমে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। তবে বিক্রির অর্থ সরকারি কোনো অ্যাকাউন্টে এখনও জমা করা হয়নি।
ইউএনওর প্রতিক্রিয়া: হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় জানান, মাছ বিক্রির সংক্রান্ত কোনো অফিসিয়াল চিঠি বা নিলামের তথ্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে পৌঁছায়নি। মাছ বিক্রি হয়ে থাকলে সেই টাকা কোন কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে তা প্রশাসনিকভাবে তাঁর জানা নেই