নওগাঁর আত্রাইয়ে ৭ম শ্রেণির ১২ বছর বয়সী এক শিশুর বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে বরযাত্রীদের হামলার মুখে পড়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান। এ সময় ইউএনওর গাড়ি আটকে বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বরপক্ষের লোকজন। গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সমাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে আত্রাই থানার ওসি মাহবুব আলমের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্সের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বর-কনেসহ মোট ৭ জনকে আটক করা হয়।
আজ রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে বর ও কনের অভিভাবকসহ জড়িতদের বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা ও দণ্ড প্রদান করেছেন ইউএনও।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা ও আইনি ব্যবস্থা:
অর্থদণ্ড ও মুচলেকা: বাল্যবিয়ে আয়োজনের অপরাধে বরের বাবা মো. ইয়ানুস শেখকে ২০ হাজার টাকা এবং কনের বাবা জুয়েলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি আইন মেনে চলার বিষয়ে উভয়ের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
কারাদণ্ড: সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা এবং পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মচারীদের ওপর আক্রমণের অভিযোগে সমাসপাড়া গ্রামের মান্নানকে ১ বছর, মো. রাব্বি শেখকে ৬ মাস এবং মো. মাহাতাব আলীকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সমাসপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে আল আমিন নামের এক যুবকের বিয়ের আয়োজন চলাকালে ইউএনওর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করা হয়। বরকে নিয়ে আসার সময় স্থানীয় প্রায় ৩০ জন বরযাত্রী ও সাবেক স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুনিরুল জামানের উসকানিতে হামলা ও ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালানো হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে সাবেক সভাপতি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ইন্ধনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।