ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বুচা জেলায় অবস্থিত একটি অস্ত্রাগারে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) গভীর রাতে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এটি চলতি বছরের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে কিয়েভ অঞ্চলের কোনো অস্ত্রাগারে রাশিয়ার এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের হামলা।
ভিডিও বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, জনবসতির এত কাছাকাছি বিস্ফোরক মজুত রাখার বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভয়াবহ অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি গত মাসে ভিশনেভে এলাকার সামরিক গুদামে হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে ১০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও সার্বিক পরিস্থিতি:
প্রাণহানি ও হতাহত: হামলায় উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে প্রারম্ভিক মুহূর্তেই প্রাণ হারিয়েছেন দিমিত্রিভকা সম্প্রদায়ের প্রধান তারাস দিদিচসহ মোট ৩৭ জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
বাসস্থান ধ্বংস ও স্থানান্তর: বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে এলাকা ছেড়েছেন ৩৭০ জনেরও বেশি স্থানীয় বাসিন্দা।
টানা ড্রোন হামলা: কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর টকাচেঙ্কো জানান, টানা দুই দিন ধরে আকাশপথে সতর্কবার্তা জারির পর রাশিয়া এই জেট-চালিত ড্রোন হামলা চালায়।
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হতে চলায়, এ ধরণের অত্যাধুনিক ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনকে একা না রেখে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি।