ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারা। এ ঘটনায় মর্মাহত, ক্ষুব্ধ ও লজ্জিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী সাফা কবির।
একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বাঁধনের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সাফা কবির লেখেন, ‘আমি ভীষণভাবে মর্মাহত, ক্ষুব্ধ এবং লজ্জিত।
আজমেরী হক বাঁধন আপু ও তার পরিবারকে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, কোনো শিল্পীরই এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
দেশের বাইরে কোনো চলচ্চিত্র উৎসবে একজন শিল্পী যখন নিজের চলচ্চিত্র ও দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যান, তখন তার প্রাপ্য সম্মান ও নিরাপত্তা, অপমান, হয়রানি কিংবা আতঙ্ক নয়।
সাফা কবিরের মতে, দেশের শিল্পীদের বারবার রাজনীতির টানাপোড়েনের মধ্যে টেনে আনা হচ্ছে।
শিল্পীরা সত্য, ন্যায় ও মানুষের কথা বলবেন- এটিই তাদের স্বাধীনতা। কিন্তু সেই কণ্ঠের কারণে একজন শিল্পীকে কেন বারবার মূল্য দিতে হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় শুধু শিল্পীর নিরাপত্তা নয়, এর প্রভাব দেশের ভাবমূর্তির ওপরও পড়তে পারে বলে মনে করেন সাফা। তিনি লেখেন, কিছু মানুষের আচরণের কারণে পুরো জাতিকে হিংস্র, উগ্র কিংবা অসভ্য হিসেবে বিচার করা দুঃখজনক।
তার প্রশ্ন, ‘কিছু মানুষের কাজের দায় কেন একটি পুরো দেশের মানুষ বহন করবে? কেন সাধারণ বাংলাদেশিদের তার মূল্য দিতে হবে, দেশের বাইরে সম্মান থেকে শুরু করে ভিসা কিংবা চলাচলের ক্ষেত্রেও?’
বাঁধনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় গভীরভাবে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ উল্লেখ করে সাফা কবির ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। পাশাপাশি এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাময়িক আলোচনা-সমালোচনার পর বিষয়টি যেন হারিয়ে না যায়, সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
সাফা বলেন, ‘এই ঘটনাটিও কি কয়েক দিনের খবর হয়ে থাকবে? কিছু আলোচনা, কিছু প্রতিবাদ, কিছু সংবাদ তারপর নতুন কোনো ঘটনার নিচে চাপা পড়ে যাবে? আমরা যেন ভুলে না যাই।’
সবশেষে তিনি মনে করিয়ে দেন, একজন শিল্পীর নিরাপত্তা, সম্মান ও স্বাধীনতার প্রশ্ন কেবল ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নয়; এর সঙ্গে সমাজ, দেশ ও জাতীয় পরিচয়ের বিষয়ও জড়িত।
সাফা কবিরের ভাষায়, ‘একজন শিল্পীর কণ্ঠ, সম্মান ও নিরাপত্তা কখনোই রাজনীতির মূল্য হওয়া উচিত নয়।’