মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেনেভাতে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত পরমাণু আলোচনায় ওয়াশিংটন ও তেহরান কিছুটা ‘অগ্রগতি’ অর্জন করেছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে—যা ইঙ্গিত দেয় যে সামরিক উত্তেজনার সম্ভাবনা পুরোপুরি দূর হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, মঙ্গলবারের বৈঠকটি মাসের শুরুতে হওয়া প্রথম দফার আলোচনার তুলনায় বেশি ‘গঠনমূলক’ ছিল। তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে সম্ভাব্য চুক্তির ভিত্তি হিসেবে উভয় পক্ষ কিছু ‘নির্দেশনামূলক নীতিমালা’তে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
এদিকে, চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইরানের পার্শ্ববর্তী এলাকায় শক্তি বৃদ্ধি করছে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও জানুয়ারির বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার অভিযোগে ওয়াশিংটন চাপ বাড়িয়েছে।
গত জানুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র আরব সাগরে একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিবিসি জানায়, এক ডজন এফ-১৫ ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এমকিউ-৯ ড্রোন এবং কয়েকটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু বিমান মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে আরও দেখা গেছে, নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক ভূমধ্যসাগর থেকে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
একই সময়ে মার্কিন নৌবাহিনীর এমকিউ-৪সি ট্রিটন নজরদারি ড্রোন উপসাগরীয় অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে। এর আগে সেখানে ই-১১এ যোগাযোগ বিমান, পি-৮ পসেইডন ও ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমানের উপস্থিতির খবরও পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে বলেও জানা গেছে।








