ইউএনও সবুজ কুমার বসাক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ সকাল থেকে উপজেলার তিনটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহের কথা ছিল। দুপুরে আমি এসব ফিলিং স্টেশনগুলো পরিদর্শনে বের হই। এ সময় খবর পাই, ভাউলাগঞ্জের জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশনে বিশৃঙ্খলার কারণে এখনো জ্বালানি তেল বিতরণ শুরু হয়নি। পরে সেখানে গিয়ে দেখি, মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ লাইন (সারি)। কেউ কেউ আবার ফুয়েল কার্ড ছাড়াই জ্বালানি তেল দাবি করছেন। পরে আমি লাইনের (সারির) শেষ মাথায় গিয়ে যাঁদের ফুয়েল কার্ড নেই, তাঁদের চলে যেতে বলি। এ সময় কেউ কেউ চলেও যান। পরে সেখানে থাকা এক মোটরসাইকেল আরোহীর ফুয়েল কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ কোনো কাগজপত্র না থাকায় তাঁকে ৫০০ টাকা জরিমানা করি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কিছুটা দূর থেকে একদল লোক মিছিলের মতো করে আমাদের দিকে তেড়ে এসে আমাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় আমার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তৈবুল ইসলাম নামের একজন আনসার সদস্য আহত হন। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আমাকে রক্ষা করে পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে নিয়ে নিরাপদে রাখেন। পরে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে। আহত আনসার সদস্যকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।’
ইউএনও সবুজ কুমার বসাক আরও বলেন, ‘এ হামলা আমার কাছে পূর্বপরিকল্পিত মনে হয়েছে। কারণ, তাঁদের সঙ্গে কোনো বাগ্বিতণ্ডা বা কথা-কাটাকাটি—কোনোটাই হয়নি। হঠাৎই একদল মানুষ তেড়ে এসে হামলা করেছেন। এমনকি ওই সময় যাঁরা ভিডিও করেছেন, তাঁদের কারও কারও কাছ থেকে মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে হামলাকারীরা ডিলিট করেছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম মলিক বলেন, ‘খবর পেয়ে ওই ফিলিং স্টেশনের পাশের একটি বাড়ি থেকে ইউএনও মহোদয়কে নিরাপদে উদ্ধার করি। এর আগে কিছু লোক তাঁদের ওপর হামলা করে ইউএনও মহোদয়কেও ধস্তাধস্তি করেছে বলে জেনেছি। এ ঘটনার পর ফিলিং স্টেশনটিতে জ্বালানি তেল বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে।’