চা পান বাঙালীর মজ্জাগত সংস্কৃতির অংশ হয়েছে বহু বছর। আর এই চা পানের স্থান - চা ঘর বা চা দোকান একেকটি এলাকার মিলনমেলা হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। শহর এলাকায় যেমন এটি চোখে পড়ে, তেমনি একটি গ্রামও চা ঘর ছাড়া কল্পনা করা যায় না।
আর বহু মানুষের সম্মিলন কেন্দ্র এই চা ঘরকে নিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে চ্যারিটি সংগঠন লাভ শেয়ার বিডি ও বাঙালীর পাঠশালা।
লাভ শেয়ার বিডির আর্থিক সহযোগিতায় সাতক্ষীরায় ১০ টি গ্রাম বাছাই করা হয়েছে। সে এলাকার এই চা ঘরগুলোর পরিচালক তরুণরা জানেন সমাজ ও বিশ্ব রাজনীতির প্রধান সব ঘটনা। তাদের তত্ত্ব আর কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বাঙালীর পাঠশালা। এসব জনপদে প্রতিটি চা দোকান সংবাদ ও অজানা জিনিস জানার কেন্দ্রবিন্দু।
লাভ শেয়ার বিডি দিচ্ছে অর্থ আর বাঙালীর পাঠশালা দিচ্ছে বই, পত্রিকা ও কম্পিউটার। প্রশিক্ষিত যুবকরা এসব চায়ের দোকানে বসে গ্রামকে সাজাবে, যুবকদের পথ দেখাবে এ লক্ষ্যেই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এমন প্রকল্প বাংলাদেশে কখনো হয়নি। এমনকি বিশ্বের কোথাও এধরনের ভালোবাসার হাত গ্রাম উন্নয়ন চিন্তায় যুক্ত হয়নি।
এমন ভিন্ন ধরনের উদ্যোগ প্রসঙ্গে লাভ শেয়ার বিডির সভাপতি জাকির চৌধুরী বলেন, আমরা ২১ নং প্রকল্প থেকে ৩১ তম প্রকল্প বাঙালীর পাঠশালার তত্ত্বাবধানে দিয়েছি। দারিদ্র দূর করার পাশাপাশি এ প্রকল্প তৃণমূল মানুষকে শিক্ষিত করে তুলবে। আশা করছি অল্প কিছু দিনের মধ্যে জনপদে যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটবে।
এ প্রসঙ্গে বাঙালীয় পাঠশালা ও স্কুল অব লিডারশিপের প্রতিষ্ঠাতা ড. নয়ন বাঙালী বলেন, প্রান্তিক মানুষের স্বার্থে আমাদের সব সক্রিয়তা। আমরা আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দুইভাবেই মানুষকে সাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই চা ঘরের পরিকল্পনা নিয়ে আমরা বিস্তৃত গবেষণা করেছি। অবশ্যই এটি সফল হবে। প্রান্তিক মানুষকে সাথে নিয়ে গ্রাম পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিত করব। সে পরিকল্পনা নিয়েই সামনের দিনে অগ্রসর হচ্ছি।
এ জাতীয় আরো খবর..