বাঙালির পাঠশালা ও স্কুল অব লিডারশিপের প্রতিষ্ঠাতা ড. গোলাম রাব্বানী নয়ন বাঙালি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশকে পরিশুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের পর এত বড় পরিসরের আন্দোলন এ দেশে আর হয়নি। এটা শুধু রাজধানী বা বড় নগরকেন্দ্রিক গণআন্দোলন না। বরং প্রান্তিক জনপদে লড়াই আরও ব্যাপক ছিল।
সম্প্রতি দেশের টিভির সঙ্গে এক একান্ত আলাপচারিতায় ড. নয়ন বাঙালি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার হাসিনার আমলে দেশে আইনের শাসনের কোনো অস্তিত্ব দেখা যায়নি। রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্র আওয়ামী লুটেরারা কব্জা করে। পুরো ১৭ বছর জনগণের নাভিশ্বাস ওঠে পুরোমাত্রায়।
নিজের ওপর চলা নৃশংস অত্যাচার স্মরণ করে ড. গোলাম রাব্বানী নয়ন বাঙালি বলেন, জনসম্মুখে ও গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে আমার প্রাণনাশের চেষ্টা চালায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। কারণ, আমি চেয়েছিলাম আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। একনায়কতন্ত্র থেকে গণতন্ত্র মুক্তি পাক। এমন ন্যায্য দাবি করায় আমি হয়ে পড়ি স্বৈরাচারের শত্রু।
তিনি বলেন, একটি দেশে গণতন্ত্র না থাকলে এর কোনো ইতিবাচক ইমেজ থাকে না বিশ্বে। হাসিনার আমলে এমন বহুভাবে বাংলাদেশ লাঞ্চিত হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে আমরা যারা প্রবাস থেকে অংশগ্রহণ করেছি তারা সামিল হয়েছিল এমন কারণেই।
তিনি আরও বলেন, সমালোচনা ও নেতিবাচকতা থাকবেই। তবে এটা মানতে হবে গণঅভ্যুত্থান কখনো ব্যর্থ হয় না। স্বৈরাচার যারা তাড়াতে পারে, তারা জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির লড়াইয়েও জয়ী হবার সক্ষমতা রাখে। এজন্য অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশকে নিয়ে আমি ব্যাপক আশাবাদী।
শেষে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময়ের ঐক্য জাতি গঠনে এখন আমাদের কাজে লাগাতে হবে। হতাশার কোনো সুযোগ নেই এক্ষেত্রে। আমি তাই আশাবাদী মানুষ পুরোমাত্রায়। ভয়-ভীতির ঊর্দ্ধে উঠে একটা কথাই মনে রাখতে হবে - আমরা লড়তে জানি, আমরা গড়তে জানি।