মেহেরপুর শহরের তিনটি পৃথক স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটির তারে লাল স্কচটেপে মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু ঝুলতে দেখে চরম বোমা-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্ট মোড় ও ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের সামনে এসব বস্তু দেখা যায়।
পরবর্তীতে পুলিশ সেগুলো উদ্ধার ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত করেছে যে, এগুলো কোনো বোমা বা বিস্ফোরক নয়, বরং সাধারণ সাউন্ডবক্স।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে পলিথিন ও লাল স্কচটেপে মোড়ানো একটি সন্দেহজনক বাক্স ঝুলতে দেখেন স্থানীয়রা।
বস্তুটির সাথে তার ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত যন্ত্রাংশ যুক্ত থাকায় সেটিকে বোমা ভেবে জনমনে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয় এবং খবর পেয়ে উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমায়।
মেহেরপুর সদর থানা-পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে নিরাপত্তার স্বার্থে বাক্সটি নামিয়ে বালতির পানিতে ডুবিয়ে দেয় এবং ব্যাটারির তার কেটে বিচ্ছিন্ন করে।
পরবর্তীতে মোড়ক উন্মোচন করে জানা যায়, ভেতরের বস্তুটি স্রেফ একটি সাউন্ডবক্স।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ঘটনার পরপরই কোর্ট মোড় ও ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের সামনের বৈদ্যুতিক খুঁটিতেও একই ধরনের বাক্সের সন্ধান মেলে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল সোয়া ৯টার দিকে শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের সামনে ঝুলিয়ে রাখা একটি বাক্স থেকে হঠাৎ উচ্চ শব্দে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজতে শুরু করে।
এতে উপস্থিত মানুষের মাঝে নতুন করে বিভ্রান্তি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে সেটিও উদ্ধার করে।
উদ্ধার করা তিনটি সাউন্ডবক্সই বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, উদ্ধারকৃত বস্তুতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
মূলত বিভ্রান্তি ও জনমনে কৌতূহল ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই কে বা কারা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে এগুলো ঝুলিয়ে রেখেছিল।
তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং এর পেছনে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম চলছে।