উক্রেনের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম বিশেষায়িত ড্রোন ইউনিটসহ নতুন সৈন্যদল রাশিয়ায় মোতায়েন করেছে উত্তর কোরিয়া। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে ইউক্রেনীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার উপপ্রধান মেজর জেনারেল ভাদিম স্কিবিটস্কির বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার প্রায় ৮ হাজার ৫০০ সেনা অবস্থান করছে। এর মধ্যে ১ হাজার প্রকৌশলী ও মাইন নিষ্ক্রিয়কারী দলের পাশাপাশি অন্তত ৪০০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ড্রোন চালক রয়েছে।
এই ড্রোন অপারেটরদের মূলত ইউক্রেনের অভ্যন্তরে নজরদারি চালানো এবং নির্দিষ্ট স্থানে নিখুঁত হামলা পরিচালনার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।
ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের মতে, উত্তর কোরিয়ার সেনারা সরাসরি সম্মুখ সমরে অংশ না নিলেও রাশিয়ার পেছনের সারির প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। এতে করে রুশ বাহিনী তাদের নিজস্ব নিয়মিত সেনাদের সীমান্ত থেকে সরিয়ে ইউক্রেনের মূল ফ্রন্টলাইনে পূর্ণ শক্তিতে অভিযানের জন্য প্রস্তুত করতে পারছে।
মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির ধারাবাহিকতায় রাশিয়াকে এই সামরিক সহায়তা দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী সেপ্টেম্বরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের প্রস্তাবিত বৈঠকের পর উত্তর
কোরিয়ার কাছ থেকে আরও প্রায় ৫০ হাজার সেনা চাইতে পারে মস্কো। এখন পর্যন্ত ধাপে ধাপে পিয়ংইয়ংয়ের প্রায় ২৫ হাজার সদস্য রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শুধু সেনা সদস্যই নয়, রাশিয়াকে অত্যাধুনিক 'কেএন-২৩' ও 'কেএন-২৪' ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে উত্তর কোরিয়া। সম্প্রতি ৩০ জুলাই ইউক্রেনের রাদুশনে অঞ্চলে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একই পরিবারের চার শিশুর মৃত্যু হয়।
সামরিক সহায়তার বিনিময়ে পিয়ংইয়ং রাশিয়ার কাছে শক্তিশালী ‘এস-৪০০’ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়েছে এবং ইতোমধ্যে তাদের কাছ থেকে ‘প্যান্টসির-১’ আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি অর্জন করেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।