ঢাকার বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় বিক্রির উদ্দেশে সরবরাহের সময় জামালপুরে প্রায় ২৪ মণ (৯৫০ কেজি) ঘোড়ার মাংস জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে পাঁচজনকে আটক করে বিভিন্ন
মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এর আগে ভোরে জামালপুর সদর উপজেলার নরুন্দি ইউনিয়নের মিরাপুর ঘাট এলাকা থেকে বস্তাবন্দি মাংসের এই বড় চালানটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তুলশীরচর এলাকা থেকে একটি পিকআপ ভ্যানে করে মাংসগুলো মিরাপুর ঘাটে নিয়ে আসা হয়েছিল ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানোর জন্য। তবে বস্তাগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। তারা
গাড়িটি আটকে রেখে তাৎক্ষণিক নরুন্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সংবাদ দেন। পরে পুলিশ এসে তল্লাশি চালিয়ে ১৩টি বস্তা থেকে মোট ৯৫০ কেজি ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করে এবং পরিবহনকাজে জড়িত পাঁচজনকে আটক করে।
পরবর্তীতে জামালপুর সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমন হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত মূল তিন হোতাকে ৬ মাস করে এবং পিকআপ চালক ও হেলপারকে ২ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান
করেন। একই সাথে আসামিদের সর্বমোট ১ লাখ ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
নরুন্দি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. নাজমুল হক জানান, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ঘোড়ার মাংস সংগ্রহ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় চড়া দামে সরবরাহ করে আসছিল। জব্দ করা মাংসগুলো পচা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম
ক্ষতিকর হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়েছে। চক্রটির নেপথ্যে থাকা বাকি সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।