ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ জন আসামির মধ্যে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।
এছাড়া ৪ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে গত ২০ আগস্ট এই মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়।
প্রধান বিচারপতির নির্দেশে মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করার পর গত ১৪ জুন থেকে ধারাবাহিকভাবে এ আপিল শুনানি পরিচালিত হয়।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নুসরাতকে নিজ কক্ষে ডেকে এনে শ্লীলতাহানি করেন।
ওই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে ব্যর্থ হয়ে ৬ এপ্রিল পরীক্ষাকেন্দ্রে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মৃত্যুবরণ করেন।
ঘটনার পর নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ জন আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে একই বছর ২৯ অক্টোবর মামলার নথি ও ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়।
হাইকোর্টে দীর্ঘ শুনানি ও পর্যালোচনা শেষে আজ এই পুনর্বিন্যাসকৃত রায় দেওয়া হলো।