বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের রাজনীতি যারা করেন তাদের নিয়ে নানা কথা প্রচলিত। দল ক্ষমতায় এলে তাদের নাকি মাটিতে পা পড়ে না। প্রবাসে থেকে তারা কলকাঠি নাড়েন দেশের বহু কিছুর। অল্প দিনেই তাদের কামাই রোজগার হয় আকাশচুম্বি।
এমন প্রচলিত ধারণা ভুল প্রমাণ করে বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার এক ব্যতিক্রমী নজির সৃষ্টি করেছেন ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপির সহ-সভাপতি ও চ্যারিটি সংগঠন লাভ শেয়ার বিডির প্রতিষ্ঠাতা জাহিদ খান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে এই মানুষটি ছিলেন প্রথম কাতারে। উত্তর আমেরিকার বুকে খুনী হাসিনা বিরোধী লড়াইয়ের জোট সেভ বাংলাদেশ প্ল্যাটফর্মের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি।
আওয়ামী আমলের দীর্ঘ বছরগুলোয় জাহিদ খান ছিলেন কালো তালিকাভুক্ত। গত ১৭ বছর মা, বাবার কবর জিয়ারতের জন্য হলেও একবারের জন্য বাংলাদেশের মাটিতে ফিরতে পারেননি তিনি।
বুকে কষ্ট চেপে রেখে দৃঢ় মনোবল নিয়ে জাহিদ খান লড়েছেন জুলুমশাহীর বিরুদ্ধে। হোয়াইট হাউস, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে দিনের পর দিন বাংলাদেশে গণতন্ত্র হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কর্মসূচিতে সামিল হতেন তিনি।
প্রবাসের রাজনীতিতে তিনি যেমন অগ্রসৈনিক, মানবতার পাশে দাঁড়ানো চ্যারিটিতেও তিনি সামনের কাতারে। দেশে না থাকলেও নিজের চ্যারিটি সংগঠন লাভ শেয়ার বিডির মাধ্যমে তিনি দুঃখী বাংলার মানুষের পাশে ছিলেন।
'নিজেকে দিয়ে শুরু' স্লোগানের চ্যারিটি সংগঠন লাভ শেয়ার বিডি প্রথম থেকেই পিছিয়ে পড়া মানুষকে সাবলম্বী করতে নিয়েজিত। এ সংগঠনের আয়োজনে চলেছে একের পর এক মানবতাবাদী কার্যক্রম।
শুরুতে ঢাকা ও বরিশালে বেকার যুবকদের মাঝে রিকশা বিতরণ করা হয় বিনামূল্যে। এরপর বিগত করোনা মহামারির সময় রাজধানীর খিলগাঁওয়ে ফ্রি অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ করা হয়। একই এলাকায় চলে নারীদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। পরে এই নারীদের মাঝে ফ্রি সেলাই মেশিন বিতরণ করে লাভ শেয়ার বিডি।
জাহিদ খান প্রতিষ্ঠিত এই চ্যারিটি সংগঠন নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিটি রমজানে বিভিন্ন জনপদে বিনামূল্যে ইফতারের ব্যবস্থা করে লাভ শেয়ার বিডি।
২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ সুগম হয় এই নেতার জন্য। নিয়মিত বিরতিতে তিনি কয়েকবার বাংলাদেশে আসেন।
জাহিদ খানের তেমন বাংলাদেশে আসার পর্ব ছিল এবারের জুলাই-আগস্ট মাসে। শুরুতেই তিনি খোঁজ নেন জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা ঠিকভাবে হচ্ছে কিনা এ নিয়ে। লাভ শেয়ার বিডি দেশের বহু প্রান্তের আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা তহবিলে অর্থ জোগায়।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি ও সাবেক বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সাথে নিয়ে তিনি এরপর যান উত্তরের বিভাগ রংপুরে। সেখানে লাভ শেয়ার বিডি আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পের অধীনে ২৫ টি চা ঘরের উদ্বোধন করেন। এ আয়োজনের প্রধান অতিথি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বক্তব্যে বলেন, "মানবতার পাশে দাঁড়াতে লাভ শেয়ার বিডি একটি অনুসরণযোগ্য সংগঠন। আমি মুগ্ধ তাদের কর্মস্পৃহা প্রত্যক্ষ করে।"
এবার জাহিদ খান দেশে থাকাকালে লাভ শেয়ার বিডি সাতক্ষীরা, ঝালকাঠি ও রাজধানীর মিরপুরের প্রায় অর্ধশত চা ঘর চালু করে। যেগুলো পরিচালনার দায়িত্বে আছে সমাজের পিছিয়ে পড়া ব্যক্তিবর্গ। যাদের নিজেদের ব্যবসার পুঁজি নেই তাদের এভাবে সাবলম্বী করে সমাজের মূল ধারায় তুলে এনেছে এমন উদ্যোগ।
এবারের এমন কার্যক্রমে পাশে ছিল ড. গোলাম রাব্বানী নয়ন বাঙালি প্রতিষ্ঠিত সংগঠন বাঙালির পাঠশালা ও স্কুল অব লিডারশিপ। এ কর্মপরিকল্পনার অধীনে চা দোকানগুলো কাজ করবে প্রান্তিক গ্রামীণ সমাজের তথ্যকেন্দ্র হিসেবে। এখান থেকে হবে সমাজ ও রাজনীতির আঙিনায় নতুন নেতৃত্বের বিকাশ।
এবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছাড়ার আগে এক ফেসবুক পোস্টে জাহিদ খান লাভ শেয়ার বিডির কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, ড. গোলাম রাব্বানী নয়ন বাঙালি, বাকেরগঞ্জের সংসদ সদস্য আবুল হোসেনসহ সংশ্লিষ্টজনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
একজন জাহিদ খানের কর্মতৎপরতা প্রমাণ করে তার সৎ মানসিকতা। তিনি নিষ্ঠ এই দেশ, মাটি ও মানুষের প্রতি। প্রবাসে থাকলে তিনি নিবেদিত দেশের তরে। এ কারণেই তিনি ব্যতিক্রম। এজন্যই তিনি মানবতার স্বার্থের মানুষ। বাংলাদেশ তাই বারবার ফিরে চায় তার কল্যাণে নিয়োজিত এই আলোর মশালকে।