বাংলাদেশের ফাইভ-জি প্রযুক্তির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং দেশের প্রতিটি ঘরে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাজীপুরের ছুটি রিসোর্টে টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘ফিক্সড ব্রডব্যান্ড: ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই কর্মশালায় টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতের সাংবাদিক, বিশেষজ্ঞ এবং ব্রডব্যান্ড শিল্পের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় মূল বার্তা ছিল স্পষ্ট—শক্তিশালী ও সর্বজনীন ফাইবার নেটওয়ার্ক ছাড়া ফাইভ-জি কাঙ্ক্ষিত সুবিধা দেওয়া অসম্ভব। তাই বিচ্ছিন্নভাবে তার না টেনে সমন্বিত ও শেয়ারড (ভাগাভাগি) অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
কর্মশালার মূল আলোচনা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত:
ফাইভ-জি ও শেয়ারড ফাইবারের প্রয়োজনীয়তা: শীর্ষস্থানীয় নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির জানান, মোবাইল টাওয়ার থেকে শুরু করে শহর-গ্রামের প্রতিটি ঘর পর্যন্ত শক্তিশালী ফাইবার সংযোগ ছাড়া ডেটানির্ভর ফাইভ-জি ব্যর্থ হবে। ১০টি আইএসপি আলাদা তার না টেনে একটি কমন আন্ডারগ্রাউন্ড ফাইবার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে খরচ ও রাস্তার খোঁড়াখুঁড়ি দুটোই কমবে।
নীতিমালা সংস্কারের তাগিদ: ২০০৬ সালের আইএলডিটিএস নীতিমালার প্রায় দুই দশক পর নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানান ফাইবার অ্যাট হোমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইনুল সিদ্দিকী। তিনি আইটি ও টেলিকম খাতকে সমন্বিত করে দ্রুত যুগোপযোগী নীতিমালার জোর দাবি জানান।
স্থানীয় পরিবেশ ও কম মূল্যের রাজস্ব চ্যালেঞ্জ: উন্নত বিশ্বে যেখানে গ্রাহক প্রতি ব্রডব্যান্ড রাজস্ব ৩০-৫০ ডলার, সেখানে বাংলাদেশে তা মাত্র ৫-১০ ডলার। এই সীমিত আয়ে গ্রাহককে ২৫ এমবিপিএস থেকে ১০০ এমবিপিএস বা তার বেশি গতির সংযোগ দেওয়া বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
দেশীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা: বিদেশী সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) কে স্বাগত জানানো হলেও টেলিকমের লাভজনক খাতগুলোতে এতদিন ধরে অবদান রাখা স্থানীয় ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের সমান সুযোগ এবং অবকাঠামোগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর তাগিদ দেওয়া হয়।
এক নজরে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তাবনা:
| খাত / বিষয় | বর্তমান বাস্তবতা | বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাবনা ও রূপরেখা |
| ফাইবার অবকাঠামো | একই এলাকায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের পৃথক তারের জট ও অপচয়। | কেন্দ্রিক শেয়ারড (Shared) ফাইবার নেটওয়ার্ক গঠন। |
| আইনি অবকাঠামো | ২০০৬ সালের আইএলডিটিএস (ILDTS) নীতিমালা কার্যকর। | দুই দশকের পুরোনো নীতিমালা দ্রুত সংস্কার ও যুগোপযোগীকরণ। |
| আঞ্চলিক ব্যান্ডউইথ | রপ্তানি করলে দেশের গতি কমে—এমন ভুল ধারণা রয়েছে। | বিদ্যমান ও সম্প্রসারিত ক্ষমতার সঠিক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা। |
| ডিজিটাল সেবা | কেবল ইন্টারনেট সংযোগেই বেশি নজর। | ফাইবার নির্ভর দেশীয় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ই-গভর্নেন্স অ্যাপ তৈরি। |
প্রকৃতির সান্নিধ্যে আয়োজিত এই কর্মশালা থেকে বিশেষজ্ঞরা আশা ব্যক্ত করেন যে, সঠিক পরিকল্পনা, অবকাঠামো সুরক্ষা এবং সমন্বিত নীতিমালার ওপর ভর করেই গড়ে উঠবে আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির ভিত।