1. [email protected] : admi2019 :
info@deshertvusa.tv +8801979-343434
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি আন্তজাতিক খেলা বিনোদন প্রবাস আরও

ফাইভ-জি’র সুফল ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেটের জন্য শেয়ারড ফাইবার নেটওয়ার্ক ও দুই দশকের নীতি সংস্কার জরুরি: প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের তাগিদ

প্রতিবেদনঃ স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট টাইমঃ 26-08-2026 ইং
  • 8053 বার পঠিত
ad728

বাংলাদেশের ফাইভ-জি প্রযুক্তির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং দেশের প্রতিটি ঘরে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাজীপুরের ছুটি রিসোর্টে টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘ফিক্সড ব্রডব্যান্ড: ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই কর্মশালায় টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতের সাংবাদিক, বিশেষজ্ঞ এবং ব্রডব্যান্ড শিল্পের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কর্মশালায় মূল বার্তা ছিল স্পষ্ট—শক্তিশালী ও সর্বজনীন ফাইবার নেটওয়ার্ক ছাড়া ফাইভ-জি কাঙ্ক্ষিত সুবিধা দেওয়া অসম্ভব। তাই বিচ্ছিন্নভাবে তার না টেনে সমন্বিত ও শেয়ারড (ভাগাভাগি) অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

কর্মশালার মূল আলোচনা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত:

  • ফাইভ-জি ও শেয়ারড ফাইবারের প্রয়োজনীয়তা: শীর্ষস্থানীয় নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির জানান, মোবাইল টাওয়ার থেকে শুরু করে শহর-গ্রামের প্রতিটি ঘর পর্যন্ত শক্তিশালী ফাইবার সংযোগ ছাড়া ডেটানির্ভর ফাইভ-জি ব্যর্থ হবে। ১০টি আইএসপি আলাদা তার না টেনে একটি কমন আন্ডারগ্রাউন্ড ফাইবার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে খরচ ও রাস্তার খোঁড়াখুঁড়ি দুটোই কমবে।

  • নীতিমালা সংস্কারের তাগিদ: ২০০৬ সালের আইএলডিটিএস নীতিমালার প্রায় দুই দশক পর নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানান ফাইবার অ্যাট হোমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইনুল সিদ্দিকী। তিনি আইটি ও টেলিকম খাতকে সমন্বিত করে দ্রুত যুগোপযোগী নীতিমালার জোর দাবি জানান।

  • স্থানীয় পরিবেশ ও কম মূল্যের রাজস্ব চ্যালেঞ্জ: উন্নত বিশ্বে যেখানে গ্রাহক প্রতি ব্রডব্যান্ড রাজস্ব ৩০-৫০ ডলার, সেখানে বাংলাদেশে তা মাত্র ৫-১০ ডলার। এই সীমিত আয়ে গ্রাহককে ২৫ এমবিপিএস থেকে ১০০ এমবিপিএস বা তার বেশি গতির সংযোগ দেওয়া বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

  • দেশীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা: বিদেশী সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) কে স্বাগত জানানো হলেও টেলিকমের লাভজনক খাতগুলোতে এতদিন ধরে অবদান রাখা স্থানীয় ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের সমান সুযোগ এবং অবকাঠামোগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর তাগিদ দেওয়া হয়।

এক নজরে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তাবনা:

খাত / বিষয়বর্তমান বাস্তবতাবিশেষজ্ঞদের প্রস্তাবনা ও রূপরেখা
ফাইবার অবকাঠামোএকই এলাকায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের পৃথক তারের জট ও অপচয়।কেন্দ্রিক শেয়ারড (Shared) ফাইবার নেটওয়ার্ক গঠন।
আইনি অবকাঠামো২০০৬ সালের আইএলডিটিএস (ILDTS) নীতিমালা কার্যকর।দুই দশকের পুরোনো নীতিমালা দ্রুত সংস্কার ও যুগোপযোগীকরণ।
আঞ্চলিক ব্যান্ডউইথরপ্তানি করলে দেশের গতি কমে—এমন ভুল ধারণা রয়েছে।বিদ্যমান ও সম্প্রসারিত ক্ষমতার সঠিক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা।
ডিজিটাল সেবাকেবল ইন্টারনেট সংযোগেই বেশি নজর।ফাইবার নির্ভর দেশীয় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ই-গভর্নেন্স অ্যাপ তৈরি।

প্রকৃতির সান্নিধ্যে আয়োজিত এই কর্মশালা থেকে বিশেষজ্ঞরা আশা ব্যক্ত করেন যে, সঠিক পরিকল্পনা, অবকাঠামো সুরক্ষা এবং সমন্বিত নীতিমালার ওপর ভর করেই গড়ে উঠবে আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির ভিত।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Whatsapp
  • Linkedin
  • প্রিন্ট নিউজ
  • কপি লিঙ্ক
এ জাতীয় আরো খবর..