বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে কৌশলে চার মাস বয়সী এক কন্যাসন্তানকে অপহরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ শিশুটির নাম মারুফা জান্নাত মাহি। সে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দক্ষিণ ছালামী পাড়ার মো. রশিদ উল্লাহ ও ইয়াছমিন আক্তার দম্পতির মেয়ে।
এ ঘটনার পর গত ২২ আগস্ট শিশুটির মা ইয়াছমিন আক্তার (২৮) বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার পাঁচ দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ ও পরিবারের দাবি:
কৌশলে সটিয়ে নিয়ে যাওয়া: গত ২১ আগস্ট ইয়াছমিন আক্তার ও তাঁর স্বামী নাইক্ষ্যংছড়ির ইসলামপুর এলাকায় ননদ খালেদা বেগমের বাড়িতে বেড়াতে যান। পরদিন (২২ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শফি উল্লাহর ঘরে অবস্থানকালে মো. আলমের স্ত্রী তৃষা মোবাইল চার্জ দেওয়ার অজুহাতে শিশু মাহিকে কোলে নিয়ে পাশের ঘরে যান। কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে দুধ খাওয়ানোর জন্য খোঁজ শুরু করলে জানা যায় তৃষা ও আলম শিশুটিকে নিয়ে চম্পট দিয়েছে।
লেনদেনের যোগসাজশ: ভভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বাড়িওয়ালা শফি উল্লাহ ও খালেদা বেগমের সাথে অভিযুক্ত আলম-তৃষা দম্পতির ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আর্থিক লেনদেন রয়েছে। তাঁদের অসৎ উদ্দেশ্য ও যোগসাজশেই শিশুটিকে গুম করা হয়েছে।
টাকা দিলে শিশু ফেরত: শিশুটির মামা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অপহরণকারীদের সাথে তাঁদের মুঠোফোনে কথা হয়েছে। পাওনা টাকা শোধ করলেই শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার শর্ত দিচ্ছে তারা।
এক নজরে মামলার তথ্য ও আসামিদের তালিকা:
| বিবরণ | তথ্য |
| নিখোঁজ শিশু | মারুফা জান্নাত মাহি (বয়স: ৪ মাস) |
| অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ | ১. শফি উল্লাহ (৫০) ২. খালেদা বেগম (৪০) ৩. মো. আলম (৩০) ৪. তৃষা (২৫) |
| ঘটনাস্থল ও তারিখ | ইসলামপুর, নাইক্ষ্যংছড়ি, বান্দরবান (২২ আগস্ট) |
| তদন্তের বর্তমান অবস্থা | মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রামে সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত, উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। |
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিশুটিকে উদ্ধারের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে শিশুটি চট্টগ্রামে রয়েছে। পারিবারিক আর্থিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটলেও শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পুলিশ কাজ করছে।