প্রতারণার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত।
ঢাকার অপরাধ-তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ও সাজা সংক্রান্ত বিবরণ:
গ্রেপ্তারের বিবরণ: সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরের 'অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট' থেকে বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সাজার রায়: এর আগে গত ২০ মে এই মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম তাঁকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
মামলার প্রেক্ষাপট ও এজাহারের অভিযোগ:
ফ্ল্যাট কেনার চুক্তি (২০০১): মামলার বাদী মিরপুর-১০ এলাকার স্যানিটারি পণ্য ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন। ২০০১ সালে বারিধারার 'প্রেসিডেন্ট পার্ক'-এর একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য বিদিশার সঙ্গে তাঁর ৮০ লাখ টাকার চুক্তি হয়।
অর্থ গ্রহণ ও বায়নানামা: বিদিশার নির্দেশে তাঁর বন্ধু ও মনোনীত ব্যক্তি আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার পরিশোধ করা হয় এবং বায়নানামা সম্পাদিত হয়।
প্রতারণা ও চেক ডিজঅনার: দীর্ঘসময়েও রাজউক থেকে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে কালক্ষেপণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে দেওয়া ৭২ লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেকও পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকায় ডিজঅনার হয়।
হুমকি-ধামকি: টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে চাপ দিলে পরবর্তীতে বাদীকে সন্ত্রাসী দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
এক নজরে মামলার সামারি:
| বিষয় | তথ্য ও বিবরণ |
| আসামির পরিচয় | বিদিশা সিদ্দিক (প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের সাবেক স্ত্রী)। |
| মামলার বাদী | মোশাররফ হোসেন (স্যানিটারি পণ্য ব্যবসায়ী)। |
| আর্থিক বিরোধের পরিমাণ | ৮০ লাখ টাকার চুক্তি (পরিশোধিত ৭৫ লাখ টাকা)। |
| আদালতের দণ্ডাদেশ | ২ বছরের কারাদণ্ড ও ১০,০০০ টাকা জরিমানা। |
| বর্তমান অবস্থা | জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ। |