নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় পর্বতচূড়া থেকে প্রকাণ্ড হিমবাহ ধসে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করী আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা এক লাফে সাড়ে ছয় শর কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ বিপর্যয়ে কেবল নেপালেই অন্তত ৬১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় এখনো দুই হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) দেশটির পুলিশের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিপর্যয়ের ধরণ ও ইউএসজিএস (USGS)-এর পর্যবেক্ষণ:
ভূমিকম্পের পর বড় আঘাত: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর এটিই নেপালে ঘটা সবচেয়ে বড় এবং প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
যেভাবে ঘটল বিপর্যয়: পর্বতচূড়ার বিশাল একটি হিমবাহ হঠাৎ ধসে পড়ে কাদা, পাথর ও গলিত বরফের মিশ্রণে এক ভয়াবহ তোড় তৈরি করে। এতে পাহাড়ি নদীর পানি নিমেষেই উপচে পড়ে নদী অববাহিকার পথ, গ্রাম ও রাস্তাঘাট ধ্বংস করে দেয়।
তিব্বতের প্রাণহানি: চীনের সীমান্ত সংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলেও অন্তত ৭ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২৩ জনে।
সেনাবাহিনীর উদ্ধার তৎপরতা: যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্গম অঞ্চলে সেনাসদস্য ও উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টারের সাহায্যে নিখোঁজ ও আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে ইতিহাসের বৃহত্তম তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
এক নজরে নেপাল-তিব্বত ট্র্যাজেডির নতুন আপডেট:
| সূচক / বিষয় | আপডেট তথ্য (২৯ আগস্ট) |
| মোট নিশ্চিত মৃত্যু | ৬২৩ জন (নেপালে ৬১৬ জন + তিব্বতে ৭ জন)। |
| নিখোঁজের আনুমানিক সংখ্যা | ২,০০০ জনের বেশি। |
| বিপর্যয়ের মূল কারণ | হিমালয়ের পর্বতচূড়ায় প্রকাণ্ড হিমবাহ ধস (Glacial Outburst)। |
| দুর্যোগের মাত্রা | ২০১৫ সালের নেপাল ভূমিকম্পের পর সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়। |
| চলমান উদ্ধার তৎপরতা | সেনাবাহিনী ও হেলিকপ্টার বহর নিয়ে জরুরি উদ্ধার অভিযান। |