গুমকে মানবাধিকারের ‘চরম লঙ্ঘন’ ও বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার গুমের প্রতিটি ঘটনার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ রোধে পৃথক আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। আগামীকাল আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা জানান।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করতে গুম-অপহরণের পথ বেছে নিয়েছিল এবং ভুক্তভোগীদের মাসের পর মাস আটকে রাখতে ‘আয়নাঘর’ নামের গোপন বন্দিশালা তৈরি করেছিল। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে তৎকালীন সরকার অন্তত সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছে।
গুমের বিচার ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানান সরকারপ্রধান। উত্থাপিত এসব বিল আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে কেউ আর এ ধরনের অপরাধ করার সাহস পাবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এই মনুষ্যত্বহীন অপরাধের সাথে জড়িতদের বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, এবারের আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।