হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ধসের ঘটনায় নেপাল এবং তিব্বতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭৫০ জনে দাঁড়িয়েছে (নেপালের নিজস্ব হিসাবে ৬৬৯ এবং যৌথ হিসাবে ৭৩৪টি লাশ উদ্ধার)। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। আজ রোববার (৩০ আগস্ট) নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বন্যা পরিস্থিতি ও উদ্ধার অভিযানের সর্বশেষ চিত্র:
প্রাণহানি ও উদ্ধার: নেপাল অংশে ৬৬৯ জনের প্রাণহানির পাশাপাশি ২,৪২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ৩,৭০০ জনের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, তিব্বত অঞ্চলে ৭ জন নিহত ও ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্গম এলাকায় উদ্ধার কাজ: সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নুয়াকোট ও ত্রিশুলি এলাকায় হেলিকপ্টারের সাহায্যে খাদ্য, ওষুধ ও ত্রাণ পৌঁছানোর পাশাপাশি আটকে পড়া বৃদ্ধ ও শিশুদের উদ্ধার করা হচ্ছে। ভারত থেকে ১১ সদস্যের বিশেষায়িত টানেল রেসকিউ টিমসহ ৫৭ টন ত্রাণ সরবরাহ করা হয়েছে। চীন, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া থেকেও সহায়তা আসছে।
টানেলে আটকে পড়ার আশঙ্কা: রাসুওয়া জেলার আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণাধীন কাদাপূর্ণ সুড়ঙ্গে (টানেল) ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে নেপাল সেনাবাহিনী।
নতুন হ্রদ ও বন্যা আতঙ্ক: প্রাথমিক বন্যার পর উঁচু হিমালয়ে হিমবাহ ধসে একটি কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হওয়ায় পুনরায় প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে চীনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হ্রদটির পানির স্তর প্রায় ১০ মিটার নেমে এসেছে।
হাসপাতালে স্বজনদের হাহাকার: কাঠমান্ডুর প্রধান সরকারি হাসপাতালের বাইরে স্বজনরা নিখোঁজদের ছবি নিয়ে ভিড় করছেন। সেখানে ১,৬০০টির বেশি নিখোঁজ ডায়েরি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, উদ্ধার ও পুনর্বাসনকে সর্বোচ্চ জাতীয় অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্রের সকল সম্পদ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চার জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নেপালের বাকি অংশ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।