নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও হিমবাহ ধসের পর ধ্বংসাবশেষে তলিয়ে যাওয়া জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টানেলে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার শুরু করেছেন উদ্ধারকারীরা। হিমালয়ের ত্রিশূলী ৩-এ এবং ৩-বি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন টানেলে ১০০ জনেরও বেশি শ্রমিক এখনো জীবিত আটকে রয়েছেন বলে ধারণা করছে দেশটির সরকার।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসেবে গত বুধবার থেকে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎ কর্মীর সন্ধানে রোববার (৩০ আগস্ট) পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার তৎপরতা ও সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতি:
উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি: সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল ড্রিলিং মেশিন, এক্সকেভেটর ও হাইড্রোলিক কাটার ব্যবহার করে চারটি ছিদ্র করার কাজ সম্পন্ন করেছে। আটকে পড়াদের জন্য ভেতরে বাতাস পাম্প করা এবং বিশেষ সার্চ ক্যামেরা পাঠায় উদ্ধারকারীরা। আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে ভারত ও চীনের বিশেষায়িত টানেল-উদ্ধারকারী দল এবং নেপালের বিশেষজ্ঞ পর্বত উদ্ধারকারীরাও এ অভিযানে যোগ দিয়েছেন।
দুর্যোগের উৎস: ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্যমতে, চীন-নেপাল সীমান্তে এই দুর্যোগটি মূলত একটি হিমবাহ ধসের কারণে ঘটেছিল, যা নিমেষে কাদা ও বিশাল পাথরসহ তোড় নিয়ে উপত্যকায় আছড়ে পড়ে।
বিদ্যুৎ খাতে চরম আঘাত: নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ বা ৪৩১.১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১১টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও একটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া ৪৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নির্মাণাধীন আরও ১৫টি বিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।