ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক আজ রোববার (৩০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ নিয়ে আলোচনার কথা থাকলেও, মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিলটিকে ‘দুর্বল ও সীমিত’ আখ্যা দিয়ে এর আলোচনা বয়কট করেছেন কমিটির বিরোধী দলীয় তিন সদস্য।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান, আল ফারুক আব্দুল লতিফ এবং আখতার হোসেন বৈঠক চলাকালে বের হয়ে যান এবং লিখিতভাবে তাঁদের এই অবস্থানের কথা স্থায়ী কমিটিকে জানান।
বিরোধী দলীয় সদস্যদের অবস্থান ও লিখিত আপত্তির মূল কারণসমূহ:
একতরফা অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও দুর্বল বিল: লিখিত বক্তব্যে তাঁরা জানান, অংশীজন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতামত উপেক্ষা করে একতরফাভাবে 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫' রহিত করা হয়েছিল। শক্তিশালী আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে আগের চেয়ে দুর্বল বিল আনা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অভাব: প্রস্তাবিত বিলটি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক মানদণ্ড, ‘প্যারিস প্রিন্সিপালস’ এবং প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক কনভেনশনগুলোর সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।
‘রাবার স্ট্যাম্প’ বানানোর অভিযোগ: স্থায়ী কমিটিকে মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা দিয়ে পর্যালোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে, যা কমিটিকে একটি ‘রাবার স্ট্যাম্পে’ পরিণত করার শামিল।
বিরোধী সদস্যরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই বিল পাসের প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়েই তাঁরা অংশ নেবেন না এবং এই সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির কোনো হাসিরাতেও অনুপস্থিত থাকবেন। তবে একই বৈঠকে উত্থাপিত ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ নিয়ে আলোচনায় তাঁরা যথারীতি অংশগ্রহণ করেন।