সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কোঠাবাড়ি ও রায়টা গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বেত্রবতী নদীতে দীর্ঘ দুই যুগেও একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হয়নি। ফলে নদী সংলগ্ন চার ইউনিয়নের হাজারো মানুষকে চলাচলের জন্য ড্রাম ও বাঁশ দিয়ে তৈরি একটি নড়বড়ে ভাসমান সাঁকোর ওপর চরম ঝুঁকি নিয়ে নির্ভর করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্লাস্টিকের ৬০টি ড্রামের ওপর কাঠ ও বাঁশ বিছিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রায় ৭০ মিটার দীর্ঘ এই ভাসমান সাঁকোটি। ভারী বা হালকা কোনো যানবাহন যাওয়া দূরে থাক, পায়ে হেঁটে পার হওয়ার সময়ও পুরো সাঁকো দোলে। ঝুঁকি জেনেও হেলাতলা, কুশোডাঙ্গা, কয়লা ও যুগিখালী—এই চার ইউনিয়নের হাজার হাজার বাসিন্দা এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিদিন এটি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এলাকাবাসীদের সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে নদীর ওপরের পুরোনো বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ও গ্রামবাসীদের যৌথ উদ্যোগে বর্তমান ড্রামের সাঁকোটি তৈরি করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যান জানান, দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে তিনি নিজস্ব খরচে এখানে বাঁশের সাঁকো দিয়ে এলেও এবার তাঁর ভাইয়ের আর্থিক সহযোগিতায় এই ড্রামের সাঁকোটি বানানো হয়েছে।
সেতু নির্মাণ না হওয়ার কারণ সম্পর্কে কলারোয়া উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন জানান, আগে এখানে সেতু নির্মাণের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে নদীপাড়ের সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়। বর্তমানে স্থান সামান্য পরিবর্তন করে সেতুর একটি নতুন প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, যা পাস হলে স্থায়ী সেতুর কাজ শুরু হবে।
প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের মুখ না দেখা পর্যন্ত বেত্রবতী পারের বাসিন্দাদের এই বিপজ্জনক ভাসমান সাঁকো সম্বল করেই পারাপার হতে হচ্ছে।