নেপাল ও চীন সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এখনো ৪ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, কাদা ও পানিতে ডুবে যাওয়া বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শত শত শ্রমিককে উদ্ধারে আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ষষ্ঠ দিনের মতো উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন জরুরি উদ্ধারকারীরা।
দুর্যোগ ও উদ্ধার পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র:
হতাহতের সর্বশেষ তথ্য: নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৯৮৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৫৮৩ জন বিদেশিসহ ৩,৯১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে চীনের দেওয়া তথ্যে ১৬ জনের মৃত্যু ও ৫৪৬ জন নিখোঁজ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে দুই দেশ মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,০০০ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ। তবে এ পর্যন্ত ১১,৮১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিক সংকট: নেপালের রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অন্তত ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে আনুমানিক ৫০০ জন শ্রমিক সুবিশাল সুড়ঙ্গগুলোর ভেতরে কাদামাটিতে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কাদায় ভরা তিনটি সুড়ঙ্গ থেকে ৪ জন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে নেপালি সেনাবাহিনী। বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়ের সাথে সাথে অক্সিজেন, খাদ্য ও পানির অভাবে ভেতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে।
হিমবাহ ধস ও দুর্যোগের উৎস: গত বুধবার হিমালয়ের উঁচুতে অবস্থিত একটি হিমবাহের নিচের শিলাস্তর ধসে পড়ার কারণে এ আকস্মিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। শিলাধসের তীব্রতায় ৫.২ মাত্রার ভূকম্পন সৃষ্টি হয়, যা বরফ ও নদীর পানি মিশিয়ে কাদামিশ্রিত প্রবল স্রোতের সৃষ্টি করে তিব্বত ও নেপালের বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়।
উদ্ধার ও অবকাঠামোগত জটিলতা: বন্যা ও ভূমিধসে প্রধান প্রধান সড়ক ও সেতু ধসে পড়ায় বিচ্ছিন্ন জনপদগুলোতে হেলিকপ্টারে ত্রাণ পৌঁছানো হচ্ছে। চীনের অংশে নেপাল সীমান্তসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ গিরং বন্দর ক্রসিংয়ের সড়ক পুনর্নির্মাণে সেনা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন।
মানবিক সংকট ও স্বজনদের আকুতি: জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক জানান, দুর্গত এলাকায় প্রায় ৬৫ হাজার মানুষের জরুরি পানি ও স্বাস্থ্যসামগ্রী প্রয়োজন। পাশাপাশি হাজার হাজার শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারী মারাত্মক পুষ্টি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। এদিকে নিখোঁজ স্বজন ও তীর্থযাত্রীদের খোঁজে ইমিগ্রেশন কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন উদ্ধার কেন্দ্রে মরিয়া হয়ে সন্ধান চালাচ্ছেন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত স্বজনরা।