যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নের সানাপাড়া গ্রামে আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. ইয়াছিন আলী নিজ বাড়ির উঠানে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের ‘এন-৫৩’ জাতের বীজ রোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উপায়ে ফসল উৎপাদনের এই উদ্যোগ নেন তিনি।
উদ্যোগ, পরিচালনা ও সহায়তার মূল বিষয়সমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
পরিবেশবান্ধব ও জৈব প্রযুক্তি: ইয়াছিন আলী নিজ বাড়িতেই জৈব সার, জৈব কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক তৈরি করছেন। রাসায়নিক সার ও ক্ষতিকারক কীটনাশকমুক্ত এসব উপাদান ব্যবহার করে তিনি ইতিমধ্যেই ধান, পাট, কলা ও বিভিন্ন শাকসবজি সফলভাবে উৎপাদন করেছেন।
উৎপাদন লক্ষ্য ও পরিকল্পনা: বাজারনির্ভরতা কমিয়ে রাসায়নিক মুক্ত ফসল উৎপাদন এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চাহিদা মেটানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। উৎপাদিত চারা দিয়ে নিজের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চারা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
কর্মকর্তাদের তদারকি ও সহায়তা:
আনসার ও ভিডিপি বিভাগ: বীজ রোপণ কার্যক্রম তদারকি করে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিয়াজান আলী জানান, বাহিনীর সদস্যদের এমন স্বাবলম্বী উদ্যোগে সরকারি সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
কৃষি বিভাগ: উপজেলা কৃষি অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘এন-৫৩’ জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। ইয়াছিন আলীর জৈব পদ্ধতি স্থানীয় কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে অনুপ্রাণিত করবে এবং কৃষি বিভাগ থেকে তাঁকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্বেচ্ছাশ্রম ও উপস্থিতি: স্থানীয় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা বীজ রোপণে স্বেচ্ছাশ্রম প্রদান করেন। কার্যক্রম চলাকালে সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন দলনেতা তালিব হুসাইন, সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য হাসিনা বেগমসহ স্থানীয় অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।