অপর্যাপ্ত ঘুমের ফলে শরীরে যে ঘুমের ঘাটতি তৈরি হয়, তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্লিপ ডেট বলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের শরীর ও মস্তিষ্কের সুস্থতায় প্রতিনিয়ত আমাদের ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতের ঘুম আমাদের শরীরে জন্য বেশ কার্যকরী। অনেকে মনে করেন, প্রতিদিন রাত জেগে কাজ করে সপ্তাহে ছুটির দিন বেশি করে ঘুমিয়ে নিলে ঘুমের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। তবে ঘুমের ঘাটতি কি এই প্রক্রিয়ায় আসলেই পূরণ সম্ভব?
ঘুম বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই ধারণা সম্পূর্ন ভুল। এই অভ্যাস মানুষের দেহের মেটাবলিজমকে মারাত্মকভাবে ওলটপালট করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সারা সপ্তাহ কম ঘুমিয়ে ছুাটর দিনে বেশি ঘুমিয়ে নিলে সাময়িক আরাম লাগে ঠিকই, কিন্তু আমাদের মস্তিষ্কে এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।
মস্তিষ্ক স্লিপ টাইমার হিসেবে কাজ করে
মস্তিষ্কের স্লিপ টাইমার বলতে মূলত আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমকে বোঝায়। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে অবস্থিত সুপ্রাকায়াজমেটিক নিউক্লিয়াস নামের একটি বিশেষ অংশ এই টাইমারটি নিয়ন্ত্রণ করে। এটি আমাদের কখন ঘুমাতে হবে এবং কখন জেগে উঠতে হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করে।
মার্কিন গবেষক এ. এল. হেউডের মতে, মস্তিষ্ক প্রাকৃতিকভাবেই অভ্যান্তরীণ স্লিপ টাইমার বা ঘুম ঘড়ি হিসেবে কাজ করে। মানুষ যতক্ষণ জেগে থাকে, মগজের কোষ অনবরত অ্যাডোনোসিন নামক এক বিশেষ রাসায়নিক হরমোন জমা হতে থাকে। যা শরীরে স্লিপ প্রেসার বা ঘুমের চাপ তৈরি করে। এই প্রাকৃতিক স্লিপ টাইমারটি যেভাবে কাজ করে—
সন্ধ্যা বা রাতের দিকে যখন চারপাশ অন্ধকার হতে শুরু করে, তখন মস্তিষ্ক মেলাটোনিন নামের একটি হরমোন নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোনটি শরীরকে সংকেত দেয় যে এখন ঘুমানোর সময় হয়েছে। আবার সকালের আলো ফুটলে এই হরমোনের ক্ষরণ কমে যায় এবং আমাদের ঘুম ভেঙে যায়।