ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় লাঠি হাতে এক নারীর দিকে তেড়ে আসা তরুণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ওই তরুণের নাম মো. রাকিব বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি গাজীপুরের একটি হত্যা মামলার আসামি হলেও পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করছে না বলে অভিযোগ বাদীপক্ষের।
মো. রাকিব গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজার এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সহপাঠীরা তাঁকে আহমেদ রাকিব নামে চেনেন। একই হত্যা মামলায় রাকিবের যমজ ভাই মো. সাকিবও আসামি। মামলাটি দায়েরের পর থেকে তাঁরা পলাতক থাকলেও ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সময় তাঁদের দেখা যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুই নারীকে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে একজনের দিকে লাঠি হাতে তেড়ে গিয়েছিলেন রাকিব। ভুক্তভোগী ওই নারীকে কাঁদতে কাঁদতে বিচারের দাবি জানাতে দেখা যায়। ভিডিওতে ওই নারী বলেন, পুরান ঢাকায় সাহ্রির খাবার খেয়ে টিএসসিতে ঘুরতে এসেছিলেন তাঁরা। একপর্যায়ে তাঁদের হেনস্তা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ভোররাতের এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কালিয়াকৈরের সফিপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় সাব্বির হোসেন নামের এক তরুণকে কুপিয়ে ১০ তলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় হওয়া মামলার আসামি রাকিব ও তাঁর যমজ ভাই সাকিব।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর রাকিব, সাকিব ও সাব্বির একসঙ্গে একটি জিমে যান। সেখান থেকে তাঁরা দুই ভাই রাকিব ও সাকিবদের বাসা ইউনিক টাওয়ারের ছাদে ওঠেন। সঙ্গে ছিল স্থানীয় দুই কিশোর। পরে দুই কিশোরকে মুড়ি কিনতে দোকানে পাঠানো হয়। কিছুক্ষণ পর ওই দুই কিশোর ফিরে আসে এবং ভবনের নিচে রক্তমাখা অবস্থায় সাব্বিরকে পড়ে থাকতে দেখে। পরে তারা ছাদে গিয়ে সাব্বিরের কাটা নখ ও রক্তমাখা অস্ত্র পড়ে থাকতে দেখে। ওই ঘটনায় সাব্বিরের বড় ভাই মো. মহিউদ্দিন আবির বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনার পর থেকে তাঁরা দুই ভাই এলাকাছাড়া।
মামলার বাদী মহিউদ্দিন আবির প্রথম আলোকে বলেন, কালিয়াকৈর থানায় মামলাটি দায়ের করা হলেও অজ্ঞাত কারণে পরবর্তী সময় মামলাটি চলে যায় গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে, যা পরবর্তী সময় তাঁরা জানতে পারেন। গোয়েন্দা পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে অভিযোগপত্র দিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়নি। আসামিদের বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে দেখা যায়। এসব তথ্য পুলিশকে জানালেও তারা আসামিদের গ্রেপ্তার করতে কোনো তৎপরতাই দেখাচ্ছে না।
| ফজর | ৪:৪৮ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১১:৫৬ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩:৪৩ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৫:১৮ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭:০০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২:০০ মিনিট দুপুর |

