1. [email protected] : admi2019 :
info@deshertvusa.tv +8801979-343434
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি আন্তজাতিক খেলা বিনোদন প্রবাস আরও
| বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই শুরু হলো ১০৭তম সোলেমান লেংটার মেলা: মাদক ও অশ্লীলতার অভিযোগ

প্রতিবেদনঃ অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইমঃ 31-03-2026 ইং
  • 507 বার পঠিত
ad728

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলী বদরপুরে প্রশাসনের কোনো ধরনের পূর্ব অনুমতি ছাড়াই শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ১০৭তম সোলেমান লেংটার মেলা। মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজি এবং অশ্লীলতার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকায় এবার মেলার অনুমতি দেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ওরশ ও মেলার আয়োজন শুরু হওয়ায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলতলী লঞ্চঘাট থেকে সাদুল্ল্যাপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মেলার বিস্তৃতি ঘটেছে। পুরো এলাকাজুড়ে শত শত দোকানপাটের পাশাপাশি ভক্তদের গান-বাজনার জন্য তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য অস্থায়ী আস্তানা। সোলেমান লেংটার মাজার ঘিরে তার অনুসারীদের অন্তত ১৮-২০টি মাজার এবং প্রায় দুই শতাধিক খানকা বা আস্তানা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব স্থানে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং উচ্চশব্দে গান-বাজনার সাথে নাচানাচি চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত বছরের মতো এবারও মেলায় সহস্রাধিক গাঁজার দোকান বসেছে এবং আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেলার আড়ালে বিভিন্ন খানকায় অশালীন নৃত্য ও মাদক ব্যবসা চলছে। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে স্থানীয় বেশ কয়েকটি সংগঠন প্রশাসনের কাছে আগেই লিখিত আবেদন জানিয়েছিল। স্থানীয় এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, "খানকাগুলোতে গানের তালে অশালীন নৃত্য চলছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিস্থিতি এমন যে, এসবের প্রতিবাদ করার মতো সাহস বা পরিবেশ আমাদের নেই।"


মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়া মেলার অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, "মাজারের সীমানার বাইরে গাঁজার দোকান বা চাঁদাবাজির ওপর আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আমি চাই না এখানে কোনো অনৈতিক কাজ হোক, এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।" তবে অনুমতি ছাড়া এত বড় আয়োজনে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে—এমন প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান।


ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ মসজিদের খতিব মাওলানা এনামুল হক বলেন, "ইসলাম মাদক এবং নারী-পুরুষের অশ্লীলতা সমর্থন করে না। ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রাখতে এসব ইসলাম পরিপন্থী কাজ পরিহার করা উচিত।"


মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, মেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, "জেলা প্রশাসন থেকে এই মেলার কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এটি একটি বিশাল আয়োজন। যদি অনুমোদন দেওয়া হয়, তবে আইনশৃঙ্খলা সভা করে কঠোর শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে মেলার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।"


উল্লেখ্য, পীর ও সাধক হযরত শাহ সুফি সোলায়মান (রহ.) ওরফে লেংটা বাবা ১৩২৫ বঙ্গাব্দের ১৭ চৈত্র মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছর এই ওরশ ও মেলার আয়োজন করা হয়। প্রতি বছর প্রায় ১৪ থেকে ১৫ লাখ ভক্তের সমাগম ঘটে এই মেলায়। সোলেমান লেংটা জীবদ্দশায় পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা হলেও তার বোনের বাড়ি মতলবের এই বদরপুরেই তাকে সমাহিত করা হয়।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Whatsapp
  • Linkedin
  • প্রিন্ট নিউজ
  • কপি লিঙ্ক
এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728
ad728