1. [email protected] : admi2019 :
info@deshertvusa.tv +8801979-343434
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি আন্তজাতিক খেলা বিনোদন প্রবাস আরও
| বঙ্গাব্দ

শেখ মুজিব ছিলো প্রথম রাজাকার

প্রতিবেদনঃ অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইমঃ 20-05-2026 ইং
  • 1659 বার পঠিত
ad728

রাজাকার অর্থ হলো-দেশের বিরুদ্ধে কোনো দেশ বা গোষ্ঠীবিশেষ আক্রমণ করলে দেশরক্ষায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে জান,মাল,শ্রম,ত‍্যাগ দিয়ে সরকারের পক্ষে অবস্থান নেয়া।সুতরাং সে অর্থে শেখ মুজিব ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে প্রথম রাজাকার ছিলো।

কীভাবে?

যেদিন পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশে আক্রমণ শুরু করলো ঠিক সেদিন ২৫ শে মার্চ রাত ১০ টা ২০ মিনিটেই নতুন কাপড়-চোপড় পরে সুটকেস নিয়ে শেখ মুজিব আত্মসমর্পণের জন্যে প্রস্তুত থাকলো।মুজিবের আত্মসমর্পণের আগে কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ করেনি।

কেন আত্মসমর্পণ?

একদিকে নিজে প্রধানমন্ত্রী হতে ভুট্রো,ইয়াহিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে মুজিব,অপরদিকে মার্চ মাসের ২ তারিখ থেকেই সারা বাংলাদেশে বসবাসরত ভারতপন্থী হিন্দুরা ও আওয়ামীলীগ,ছাত্রলীগ মিলে বিহারী ও পাকিস্তানের নাগরিকদের গণহত্যা, ধর্ষণ, সম্পদ লুটপাট,অপহরণ ও সব প্রতিষ্ঠান দখল করা শুরু করলো।

-আওয়ামীলীগ ও মুজিবের সমস্যা ছিলো ক্ষমতাসীন তখনকার সরকারের সঙ্গে; কিন্তু নিরীহ বিহারী ও পাকিস্তানের নাগরিকদের কী অপরাধ ছিলো তা আজ ৫৫ বছরেও কোনো কুলাঙ্গারের বাচ্চার লিখিত ইতিহাসে প্রকাশ করা হয়নি শুধু ইতিহাস নিজেদের পক্ষে যাবেনা বলেই। তখন কিন্তু যুদ্ধ শুরু হয়নি এবং বিহারী ও পাকিস্তানের নাগরিকদের দ্বারা বাংলাদেশের কোনো মানুষের ক্ষতিও হচ্ছেনা,তাহলে ২ মার্চ থেকেই কেন বিহারী ও পাকিস্তানের নাগরিকদের ওপর গণহত্যা শুরু করে আওয়ামীলীগ?

একসময় মুজিব এইসব অরাজকতা দেখে অসহ‍্য হয়ে নৃশংসতাকারীদের উদ্দেশ্যে বলতে বাধ্য হন-" তোমরা এই আচরণ বন্ধ না করলে আমি তোমাদের সঙ্গে নেই।"

কিন্তু পাকিস্তানি নাগরিক ও বিহারী গণহত্যা কিছুতেই থামানো যাচ্ছিলোনা।শুধু ১৪ মার্চ একদিনেই সৈয়দপুর, রংপুর,শেরপুর,দিনাজপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামীলীগ ও হিন্দুরা মিলে ১৩ হাজার বিহারী ও পাকিস্তানের নিরীহ নাগরিকদের গণহত্যা করে,বাদ যায়নি সদ‍্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুও।

২৫ শে মার্চ অমনি অমনি বিনা কারণে সেনাবাহিনী আক্রমণে নামেনি।

অবশেষে মুজিব আত্মসমর্পণের আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে শেষ কথা বলেন," আপনাদের কথা শুনলে আমার লোকেরা আমাকে মেরে ফেলবে,আমার লোকদের কথা শুনলে আপনারা আমাকে মেরে ফেলবেন,তারচেয়ে ভালো হয় আপনারা আমাকে গ্রেফতার করে নিন।"

-এরপর মুজিব আত্মসমর্পণ করে করাচি চলে যায় এই চুক্তি করে যে,তার পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করা এবং তাদেরকে প্রতি মাসে তৎকালীন ১৫০০ রুপিয়া হাত খরচ ও তাদের দেখভাল ও চিকিৎসা খরচ যাতে সরকার বহন করে (অনেকের লেখাতেই আছে এইকথা।সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের লেখা-"এক জীবন এক ইতিহাস"-বইয়ে বিস্তারিত আছে)।

একদিকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বাংলাদেশের নাগরিকদের মারছে অপরদিকে সেই একই সেনাবাহিনী মুজিবকে পাকিস্তানে নিরাপদ রাখছে এবং মুজিবের পরিবারকে ধানমন্ডির ২৬ নাম্বার একটি বাসায় মেজর ইকবাল ও মেজর হোসেনের পাহারায় সুরক্ষা দিচ্ছে,পাশাপাশি খাবার, চিকিৎসা এমনকি যুদ্ধের সময়  ২৭ জুলাই গর্ভবতী হাসিনা জয়কে প্রসব করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীদের শুশ্রূষায় ও তত্বাবধানে।

তাহলে অর্থগতভাবে প্রথম এবং একমাত্র রাজাকার কে এবং কারা হলো?

কত লক্ষ কোটি বছর আগে দুনিয়া সৃষ্টি হয়েছে তা কেউ জানেনা। কিন্তু ইতিহাসে লাখো  লাখো যুদ্ধ হলেও কোনো ইতিহাসেই দেখা যায়না যাকে নেতা মানা হয় তাকে ও তার পরিবারকে সহিসালামতে সুরক্ষায় রেখে আক্রমণকারী দেশ সাধারণ মানুষকে হত‍্যা করতে।

মুজিবের বিষয়ে কী যুক্তি দাঁড়ালো?

অর্থাৎ -"আমি আর আমার পরিবার আমার দলীয় লোকদের অপরাধের জন্যে দায়ী নই।আপনারা আমাদেরকে সুরক্ষা দিয়ে এই জাতীকে দমন করুন," নয় কী?এইটা যদি মনোভাব না হয়,তাহলে মনোভাব তবে কী ছিলো?

এতেই প্রমাণ হয় মুজিব যুদ্ধ চায়নি,মুজিব পাকিস্তানের দেশপ্রেমিক ছিলো; সুতরাং রাজাকারের শাব্দিক অর্থে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রথম রাজাকার শেখ মুজিব ছিলো।

[[ বিহারী কারাঃ

বিহারীরা কেউই পাকিস্তানি নাগরিক ছিলো না।ভারতের বিহার অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারীদেরকে বিহারী বলা হয়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টিতে বিহারীদের ভূমিকা ছিলো অনন‍্য। লাখো বিহারী গণহত্যার শিকার হয় হিন্দুদের দ্বারা। বেঁচে যাওয়া বহু বিহারী জান বাঁচাতে স্বাধীন পাকিস্তানের পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানে তথা আজকের বাংলাদেশ অংশে চলে আসে। কেননা পাকিস্তান স্বাধীন হয় দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে। বাংলাদেশ অংশে ১৯৭১ এর যুদ্ধের সময় বিহারীর সংখ্যা ছিলো ১৩ লাখের কাছাকাছি। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশে বিহারী পাওয়া যায় সাকুল‍্যে ৩ লাখের কিছু বেশী। তাহলে প্রায় ১০ লাখ বিহারীর পরিণতি কি ছিলো? ভারতের বিহার অঙ্গরাজ্যের মানুষের ভাষা উর্দুভাষা ছিলো যা এখনো বহাল আছে।

উর্দু ভাষার কারণেই আওয়ামীলীগ ও হিন্দুদের টার্গেট হয় বিহারী; আওয়ামীলীগ মনে করতো উর্দু শুধু পাকিস্তানিদের ভাষা।

বিহারীরা ভারতের চক্রান্ত ঠিকই ধরতে পেরেছিলো।তারা যেহেতু ভারত থেকে আসে,তাই তারা জানতো বাংলাদেশ স্বাধীন হলে এদেশের মানুষের ওপর কি ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে ভারত।তাই তারা অনেকেই পাকিস্তান ভেঙ্গে যাক তা চায়নি। কিন্তু তাই বলে বাংলাদেশের মানুষকে হত‍্যাও করেনি বিহারীরা।তাছাড়া অনেক বিহারীই স্বাধীনতার পক্ষে থাকলেও তাদেরকেও হত‍্যা করে আওয়ামীলীগ। বাংলাদেশের হিন্দুরা আওয়ামীলীগের সঙ্গে যোগ দেয়।যেহেতু বাংলাদেশের হিন্দুরা ভারতের সব সিদ্ধান্তকে মনেপ্রাণে নিজেদের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়,সেহেতু ভারত থেকে আসা বিহারীরা কেউই বাংলাদেশের হিন্দুদের দৃষ্টিতে ভালো হিসেবে গণ‍্য ছিলো না।তাই যদিও ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বাংলাদেশের হিন্দুদের কোনো অবদান ছিলোনা,কিন্তু বিহারী গণহত্যা ও বিহারীদের সম্পদ দখলে আওয়ামীলীগের পাশাপাশি হিন্দুরাও সমানতালে অংশ নেয়।

অপরদিকে বাংলাদেশ অংশে চাকরি, ব‍্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়ায় বহু পাকিস্তানি নাগরিকদের বসবাস ছিলো বাংলাদেশ অংশে। কিন্তু সবার ঘরবাড়ি,প্রতিষ্ঠান দখলের পাশাপাশি গণহত‍্যা ও মহিলাদের গণধর্ষণ করে মেরে ফেলে আওয়ামীলীগ, হিন্দু,মুজিববাহিণী ও রক্ষিবাহিণীর লোকেরা। একজন পাকিস্তানিও জীবিত ছিলোনা।

বিহারী ও পাকিস্তানি নাগরিকদের গণহত্যা করে ভারত ও বাংলাদেশের মিডিয়া পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্বে বাঙালি হত‍্যার আজগুবি অপপ্রচার চালায়। যদিও যুদ্ধে ২০ হাজার বাংলাদেশী শহীদ হবার কোনো প্রমাণ নেই, কিন্তু সেটা ৩০ লাখ হিসেবে বহির্বিশ্বে প্রচারণা চালালেও বিহারী ও পাকিস্তানের নাগরিকদের গণহত্যা অগোচরেই থেকে যায় এবং সেটা আজো অপ্রকাশিত। ইতিহাস সবসময়ই বিজয়ীদের পক্ষে হয়ে থাকলেও এমন একতরফা মিথ্যা ইতিহাস বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোনো দেশের কোনো যুদ্ধেই লিখিত নেই।

লেখক: আব্দুল কুদ্দুস পাবন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Whatsapp
  • Linkedin
  • প্রিন্ট নিউজ
  • কপি লিঙ্ক
এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728
ad728