1. [email protected] : admi2019 :
info@deshertvusa.tv +8801979-343434
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি আন্তজাতিক খেলা বিনোদন প্রবাস আরও
| বঙ্গাব্দ

তারুণ্যের অসীম শূন্যতায় বাঙালীর পাঠশালা ও স্কুল অব লিডারশিপের পথ দেখানো এক ভাস্বর উদ্যোগ

প্রতিবেদনঃ অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইমঃ 26-07-2026 ইং
  • 38 বার পঠিত
ad728

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তারুণ্য হতাশায় ডুবেছিল। হয়তো তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে তাদের আবেদন ফুরিয়ে যায়। তাই ৯ মাসের রক্ত উজাড় গণযুদ্ধ শেষে উপেক্ষিত হয় জাতি গঠনের রসদ। 

এমন পরিস্থিতিতে সুশাসন অসম্ভব। নতুন বাংলাদেশ ১৯৭২ এর পর তাই কল্যাণ রাষ্ট্র হয়নি। একনায়কের উত্থান প্রত্যক্ষ করে দেশ। সরকার বিরোধী রাজনীতি সেসময় হতবিহ্বল। যুবাদের একটি অংশ হাতে তুলে নেয় অস্ত্র। আইনের প্রতি কোনো বালাই না রেখেই। এমন পন্থায় ভালো হয়নি ভবিষ্যৎ। ১৯৭৪ সালে সুফলা বাংলায় হানা দেয় দুর্ভিক্ষ। সাথে রাষ্ট্রক্ষমতায় একদলীয় শাসনের তথাকথিত গণতন্ত্র। বিশৃঙ্খলায় নাভিশ্বাস ওঠে দেশবাসীর। 

১৯৭৫ এর আগস্টে সেনাবাহিনীর একটি অংশ রক্তাক্ত অভ্যুত্থান ঘটায়। সপরিবারে নিহত হন রাষ্ট্রপতি। ক্ষমতা কেন্দ্র এরপর টালমাটাল বহুধারা ও মতে। 

৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লব রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হাজির করে দৃশ্যপটে। এই সিংহপুরুষ দায়িত্ব পেয়েই জাতি গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়াতে থাকে বাংলাদেশ। 

কিন্তু জাতির ললাটে লেখা দুর্ভাগ্য আবারও হানা দেয়। ১৯৮১ সালে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জিয়াউর রহমানকে। অনেক সার্কাস শেষে এরপর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন সেনাশাসক এরশাদ।          

গণতন্ত্রের স্বার্থে পুরো ৯ বছর এই সেনাশাসকের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই করে তারুণ্য। ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানে তারাই ছিল সামনের সারিতে। 

মাঝের কিছু সময় বাদ দিলে এরপর ২০২৪ পর্যন্ত পুরোটাই নির্দয় শাসন বাংলার জমিনে। এককালের তারুণ্য আশা ছেড়ে দেয়। নতুন তারুণ্য তখন পথ দেখাতে এগিয়ে আসে। 

১৭ বছরের জগদ্দল স্বৈরাচারকে সদলবলে দেশ থেকে বিতাড়িত করে তারুণ্যের স্পৃহা জোয়ার তৈরি করে ২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। বিশ্ব ইতিহাসে ভিন্ন ধারার এক পর্ব বাংলার এই 'মনসুন রেভুলেশন'। 

তবু এর দুবছর পেরিয়ে আবারও শঙ্কায় বাংলাদেশের তারুণ্য। নজিরবিহীন এমন আত্মত্যাগ কি আবারও বৃথা যাবে? - এই প্রশ্ন ও বিবিধ দ্বিধা যখন ভবিষ্যৎকে সংকীর্ণ করে, তখন এক পথ দেখানো আয়োজন রবিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাঙালীর পাঠশালা ও স্কুল অব লিডারশিপের উদ্যোগে। তারুণ্যের দিশা নতুন করে ফেরাতে এক সেমিনারের আয়োজন সেখানে। এর প্রতিপাদ্য "প্রশিক্ষিত রাজনৈতিক নেতৃত্বই হতে পারে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের মূল শক্তি।"

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জান্নাত আরা আগ্রহ থেকেই হাজির হয়েছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (BMA)-এর ডা. সামসুল হক সভাকক্ষে। 

সেমিনার শেষে তিনি বলছিলেন তার কথা -

"এ দেশের তারুণ্য আমার মনে হতো বেহুদা বেগার খাটে। ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে তাদের ব্যবহার করা হয়। রাজনীতির কুশীলবরা এই কাজটি করে। তাই তারুণ্য অভ্যুত্থান বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হতাশ হয়ে পড়ে। 

কিন্তু আজকের সেমিনারে হাজির হয়ে আমি উজ্জীবিত হয়েছি বক্তাদের কথা শুনে। আমিও আগামীতে বাঙালীর পাঠশালা ও স্কুল অব লিডারশিপের উদ্যোগে সম্পৃক্ত হব।"

এ দিন বেলা ১০ টায় অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সেইভ বাংলাদেশ - এর সভাপতি জাহিদ খান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবিএম মোশারফ হোসেন এমপি, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি। 

তিনি বলেন, "যোগ্য, প্রশিক্ষিত ও আদর্শিক রাজনৈতিক নেতৃত্বই দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে পারে। রাজনৈতিক কর্মীদের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্ব বিকাশে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।"

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নিলুফার ইয়াসমিন মনি এমপি, স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি। 

তিনি বলেন, "দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে নৈতিক, দক্ষ ও আদর্শভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা সময়ের দাবি।"

প্রধান বক্তা ছিলেন কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত, সহ-সভাপতি, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটি। তিনি তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করতে রাজনৈতিক শিক্ষা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও নৈতিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বাঙালীর পাঠশালা ও School of Leadership (SOLE-USA)-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. গোলাম রাব্বানী (নয়ন বাঙালি) বলেন, "নৈতিকতা, আদর্শ, জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন নেতৃত্ব গড়ে তোলাই সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।"

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাঃ পারভেজ রেজা কাঁকন, ডিরেক্টর, পলিটিক্যাল উইং, School of Leadership (SOLE-USA) এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি। 

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, "যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে।"

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোঃ আশেক আহমেদ অনিক, কো-অর্ডিনেটর, দক্ষিণ খান।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট এম. আমিনুল ইসলাম (মনির), প্রেসিডেন্ট, ইয়ুথ ফোরাম; মোঃ সাদেক আহমেদ ভূঁইয়া, কো-অর্ডিনেটর, বাঙালীর পাঠশালা ও School of Leadership (SOLE-USA) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার; মোঃ আরিফ আমান ভূঁইয়া, বাংলাদেশ চ্যাপ্টার; মোঃ মোজাম্মেল হক, কো-অর্ডিনেটর, কুমিল্লা এবং এম. মনিরুজ্জামান মনির, এক্সিকিউটিভ মেম্বার, School of Leadership (SOLE-USA) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার।

বক্তারা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে প্রশিক্ষিত, নৈতিক, দক্ষ ও দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। রাজনৈতিক কর্মীদের আদর্শিক শিক্ষা, নেতৃত্ব বিকাশ, সুশাসন, সহনশীলতা এবং গণমানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা পালনের ওপর তারা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারের সমাপনী পর্বে আগামী এক বছরের জন্য জনাব ফেরদৌস জাহান খানকে বাঙালীর পাঠশালার প্রিন্সিপাল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দেশব্যাপী রাজনৈতিক নেতৃত্ব উন্নয়ন, নৈতিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শিক্ষার্থী জান্নাত আরার এদিন ভালো লাগে সেমিনার শেষে নেয়া অংশগ্রহণকারীদের দৃপ্ত প্রত্যয় দেখে। 

তিনি বলেন, দক্ষ, সৎ, নৈতিক ও জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাঙালীর পাঠশালা ও School of Leadership (SOLE-USA)-এর কার্যক্রম দেশব্যাপি আরও বিস্তৃত করার অঙ্গীকারে আমরা আশাবাদী হয়েছি। সত্যিই বাংলাদেশটা বদলে দেয়া সম্ভব তারুণ্যের শক্তিতে। আমরা সেদিনেরই অপেক্ষায় রইলাম।  

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Whatsapp
  • Linkedin
  • প্রিন্ট নিউজ
  • কপি লিঙ্ক
এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728
ad728