মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচনের পরবর্তী ছয় মাসে জান্তা সরকারের হাতে সাত শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আগস্ট থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে অন্তত ৭০২ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২২৪ জন নারী এবং ১৫৩ জন শিশু রয়েছে। প্রধান বিরোধী দলগুলোকে বাদ দিয়ে আয়োজিত এই নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মহলের অনেকেই প্রহসন হিসেবে দেখছেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় দেশটির সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে জান্তা বাহিনীর নির্বিচার বিমান হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাগাইং অঞ্চল বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শুধু এই এলাকাতেই সামরিক অভিযানে ১৯১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, মিয়ানমারের মানুষ একদিকে নিজ দেশের সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ থেকেও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, 'স্থানীয় পর্যায়ে জীবন রক্ষার জন্য বরাদ্দ আন্তর্জাতিক তহবিল হঠাৎ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের সংকট আরও গভীর হয়েছে। এতে মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে।'