বিশ্ববাসী সাক্ষী হতে যাচ্ছে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের। বুধবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে শুরু হতে যাচ্ছে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। গ্রহণ চলাকালে সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড সূর্য চাঁদের আড়ালে পুরোপুরি আচ্ছন্ন
থাকবে।
ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে ১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম আবারও এমন পূর্ণ সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করা যাবে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেনের বিস্তৃত অঞ্চলসহ আনুমানিক দেড় কোটি মানুষ এই পূর্ণগ্রাসের সরাসরি দৃশ্য দেখার সুযোগ
পাবেন।
পূর্ণগ্রাসের পাশাপাশি পশ্চিম ইউরোপ, উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার কিছু অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হবে। সব মিলিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৯৮ কোটি মানুষ এই মহাজাগতিক ঘটনার প্রত্যক্ষ
বা পরোক্ষ অভিজ্ঞতা পাবেন।
বিজ্ঞানী মহলের মতে, পৃথিবী থেকে সূর্য ও চাঁদকে প্রায় সমআকারের মনে হওয়ার কারণেই বিশেষ মুহূর্তে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সৃষ্টি হয়। চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে অবস্থান নিয়ে সূর্যের সম্পূর্ণ চাকতিটি ঢেকে দেয়, তখনই এই দৃশ্য তৈরি
হয়।
সাধারণত প্রতি বছর পৃথিবীতে দুই থেকে পাঁচটি পর্যন্ত আংশিক, বলয়গ্রাস বা পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটলেও, পূর্ণগ্রাসের ঘটনা বেশ বিরল—যা গড়ে দেড় বছরে অন্তত একবার পৃথিবীর কোনো না কোনো প্রান্তে দেখা যায়।
এবারের গ্রহণে স্পেন, আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড এবং রাশিয়া ও পর্তুগালের নির্দিষ্ট কিছু অংশ থেকে সূর্য পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যাবে। বিশেষ করে স্পেনের লিওন, ভায়াদোলিদ, জারাগোজা, তেরুয়েল ও ভ্যালেন্সিয়ার মতো শহরগুলো পূর্ণগ্রাসের মূল
বলয়ে অবস্থান করছে। দেশটিতে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৭ মিনিটে শুরু হওয়া এই দৃশ্য স্থানভেদে সর্বোচ্চ ১১০ সেকেন্ড স্থায়ী হবে।
অন্যদিকে, মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা সরাসরি এই বলয়ে না থাকলেও সেখানকার বাসিন্দারা প্রায় ৯৯ শতাংশ সূর্য আড়ালে চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে পাবেন।
সতর্কতা: পূর্ণ সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করার সময় অবশ্যই অনুমোদিত সুরক্ষা চশমা বা ফিল্টার ব্যবহার করা জরুরি। খালি চোখে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকালে দৃষ্টিশক্তির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।