কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার চিকিৎসা চলাকালে সুস্পষ্ট কিছু ‘বিপদের লক্ষণ’ দেখা গেলেও তা পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছিল। আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশানের প্রয়াণ ঘিরে চলমান আলোচিত মামলায় আদালতে হাজির হয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন একজন ফরেনসিক চিকিৎসক।
আর্জেন্টিনার সান ইসিদ্রোর আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় চিকিৎসা বোর্ডের সদস্য ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ কার্লোস কাসিনেল্লি জানান, ম্যারাডোনার মৃত্যুর পূর্বে তাঁর শরীরে পা ও আঙুল ফুলে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং অনিয়মিত ও দ্রুত হৃদস্পন্দনের মতো মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। এসব লক্ষণ জীবন
বিপন্নহওয়ার সংকেত দিলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করেননি।
কাসিনেল্লি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতাল থেকে ছাড় পাওয়ার পরপরই তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকে। বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্তটিই ছিল প্রাথমিক ভুল। মৃত্যুর পূর্বে প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে ম্যারাডোনা তীব্র শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছেন, অথচ চিকিৎসাপদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। সময়মতো সতর্কতামূলক
পদক্ষেপ নিলে হয়তো এমন পরিণতি এড়ানো যেত।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের মাত্র দুই সপ্তাহ পর ফুসফুসে তরল জমা ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে বর্তমানে সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলছে। তবে অভিযুক্তরা সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, বহু বছরের অনিয়মিত
জীবনযাপন ও নেশার কারণেই স্বাভাবিকভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।