1. [email protected] : admi2019 :
info@deshertvusa.tv +8801979-343434
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি আন্তজাতিক খেলা বিনোদন প্রবাস আরও

মুগদা মেডিকেল ঘিরে ডায়াগনস্টিকের ‘সিন্ডিকেট’! রোগী পাঠানোর নেপথ্যে কারা?

প্রতিবেদনঃ অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইমঃ 05-09-2026 ইং
  • 35 বার পঠিত
ad728

মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিদিন হাজারো রোগীর পদচারণায় সরগরম হাসপাতাল চত্বর। কেউ এসেছেন বুকের ব্যথা নিয়ে, কেউ জ্বর, কেউ সন্তানকে নিয়ে, কেউবা দীর্ঘদিনের জটিল রোগের চিকিৎসার আশায়। সরকারি হাসপাতাল হিসেবে স্বল্প খরচে চিকিৎসা পাওয়ার আশাই তাদের এখানে টেনে আনে। কিন্তু হাসপাতালের প্রধান ফটক পেরিয়ে আশপাশের সড়কে পা রাখলেই চোখে পড়ে আরেক বাস্তবতা—ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা একের পর এক ডায়াগনস্টিক সেন্টার।


একদিকে রোগ নির্ণয়ের জন্য সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা, অন্যদিকে হাসপাতালের চারপাশে বেসরকারি পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর সারি। প্রশ্ন উঠেছে—এই দুই ব্যবস্থার মাঝখানে আসলে কারা সেতুবন্ধন তৈরি করছে? কার ইশারায় রোগী এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাচ্ছে? কে টানছে এই সিন্ডিকেটের লাগাম? ‘দুধের মাছি’ ভেবে কি এসব অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে?


অনুসন্ধানের মূল প্রশ্ন উঠেছে, হাসপাতালের ভিতর থেকে যদি কোনো রোগীকে নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়, সেটি কি নিছক মানবিক সহায়তা, নাকি এর পেছনে রয়েছে আর্থিক স্বার্থ? কোনো কর্মচারী, দালাল বা মধ্যস্থতাকারী যদি রোগীর হাতে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম ধরিয়ে দেন, তার বিনিময়ে কোনো কমিশন দেওয়া হয় কি না—সেটিই এখন যাচাইয়ের বিষয়। তবে অভিযোগের সঙ্গে প্রমাণের পার্থক্য আছে। কারও বিরুদ্ধে সরাসরি দায় চাপানোর আগে প্রয়োজন লাইসেন্স, কর্মীদের যোগ্যতা, মেশিনের নথি, রিপোর্টের সত্যতা এবং আর্থিক লেনদেনের দলিল যাচাই করা। কিন্তু প্রশ্নগুলোও তো আর ‘হাওয়া ভাসা’ কথা নয়—এগুলো জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।


একজন রোগী চিকিৎসকের কাছে গেলেন। চিকিৎসক রোগ নির্ণয়ের জন্য কয়েকটি পরীক্ষা দিলেন। রোগী ভাবলেন, পরীক্ষা করালেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। কিন্তু সেই পরীক্ষার রিপোর্ট যদি দক্ষ জনবল, অপর্যাপ্ত মান নিয়ন্ত্রণ বা ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রের মাধ্যমে তৈরি হয়, তাহলে চিকিৎসার ভিত্তিটাই বা কতটা শক্ত থাকে?


‘এক টেস্টেই রোগীকে দেওয়া হচ্ছে রোগের ওষুধ’—এমন অভিযোগের সত্যতা যদি কোথাও পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি শুধু প্রতারণা নয়; এটি চিকিৎসাব্যবস্থার জন্যও ভয়ংকর ঝুঁকির ইঙ্গিত। কারণ চিকিৎসক রোগ নির্ণয় করেন বিভিন্ন টেস্টের ওপর নির্ভর করে। আর সেই টেস্ট যদি হয় অনভিজ্ঞ ল্যাবরেটরির নিয়ন্ত্রণে, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—আমি, আপনি কিংবা একজন অসহায় রোগী কতটুকু নিরাপদ?


মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মতো একটি জনবহুল সরকারি হাসপাতালের চারপাশে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এমন ঘনত্ব তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটির বৈধ অনুমোদন আছে কি না, লাইসেন্স হালনাগাদ কি না, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল রয়েছে কি না—এসব তথ্য প্রকাশ্যে আসা জরুরি। প্রশ্ন উঠেছে, হাসপাতালের আশপাশে কর্মরত প্রতিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধ লাইসেন্স কোথায়? ল্যাবে কর্মরত টেকনোলজিস্ট, মেডিক্যাল অফিসার, প্যাথলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশাগত নিবন্ধন কী? রক্ত পরীক্ষা, বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে, ইসিজি বা অন্যান্য পরীক্ষায় ব্যবহৃত যন্ত্রগুলোর ক্রয়, আমদানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্যালিব্রেশনের নথি আছে কি? অভিযোগ উঠেছে—রিপোর্টে যে চিকিৎসকের নাম বা স্বাক্ষর থাকে, তিনি জানেনই না, কোনো রোগীকে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর বিনিময়ে চিকিৎসক, কর্মচারী, দালাল কিংবা অন্য কারও কাছে কমিশন পৌঁছায়।


বিশেষজ্ঞ বলছেন—গাছের গোড়ায় পানি না দিয়ে ডালপালা ছাঁটাই করলে সমস্যার সমাধান হয় না। তাই শুধু মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করলেই হবে না; দেখতে হবে পুরো রোগী-রেফারাল ব্যবস্থার ভেতরে কারা সক্রিয়। আরও অভিযোগ উঠছে, হাসপাতালের ফটক, টিকিট কাউন্টার, বহির্বিভাগ কিংবা জরুরি বিভাগের আশপাশে রোগী ও স্বজনদের লক্ষ্য করে কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেন। কেউ হাসপাতালের পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতার কথা বলেন, কেউ বাইরে দ্রুত রিপোর্ট পাওয়ার কথা বলেন, আবার কেউ নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেন। এসব অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্ন উঠবে—তারা কারা? তাদের হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশাধিকার কীভাবে? তারা নিয়মিত সেখানে অবস্থান করেন কীভাবে? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের চেনে কি না? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তারা রোগীপ্রতি কোনো আর্থিক সুবিধা পান কি না?


‘ধান ভানতে শিবের গীত’ গেয়ে মূল প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ একজন রোগী যখন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন, তখন তার আর্থিক দুর্বলতাকেই সবচেয়ে বেশি বিবেচনায় নেওয়া হয়। সেই রোগী যদি হাসপাতালের আশপাশের একটি বেসরকারি কেন্দ্রে গিয়ে একই পরীক্ষা কয়েক গুণ বেশি দামে করতে বাধ্য হন, তাহলে সেটি নিছক বাজারব্যবস্থা নয়—যদি প্রভাবিত করে পাঠানো হয়ে থাকে, তাহলে তা তদন্তের দাবি রাখে। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রিপোর্টের মান নিয়ে। একটি ল্যাবরেটরিতে ব্যবহৃত প্রতিটি যন্ত্রের নির্দিষ্ট মান নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্যালিব্রেশন প্রয়োজন।


মেশিনটি কোন কোম্পানির, কবে কেনা হয়েছে, আমদানির বৈধ কাগজপত্র কী, মেশিনের বর্তমান অবস্থা কী—এসব তথ্য রোগীর জানার অধিকার রয়েছে। ‘চোখে ধূলো দিয়ে পার পাওয়া’ আর কতদিন?


বিশেষ করে ইমেজিং পরীক্ষার ক্ষেত্রে যন্ত্রের মান, রক্ষণাবেক্ষণ, অপারেটরের দক্ষতা এবং রিপোর্টিং চিকিৎসকের যোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ‘বিদেশি মেশিন’ বা ‘ডিজিটাল মেশিন’—এমন প্রচারণাই যথেষ্ট নয়; যন্ত্রটি অনুমোদিত কি না, নিরাপদ কি না এবং সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে কি না, সেটাই আসল প্রশ্ন। একইভাবে রক্ত পরীক্ষার ক্ষেত্রেও শুধু ঝলমলে রিসেপশন, কম্পিউটারাইজড রিপোর্ট কিংবা আকর্ষণীয় প্যাকেজ দিয়ে মান নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজন দক্ষ জনবল, মানসম্মত রি-এজেন্ট, যথাযথ ক্যালিব্রেশন, কোয়ালিটি কন্ট্রোল এবং দায়িত্বশীল চিকিৎসকের যাচাই। ‘বাহারি মোড়কে ভেজাল পণ্য’ যেমন বাইরে থেকে বোঝা যায় না, তেমনি সুন্দর রিপোর্ট দেখেই তার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা যায় না। এখানেই উঠে আসে কথিত সিন্ডিকেটের ভেতরের কাঠামো নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


যদি সত্যিই রোগী সংগ্রহ, পরীক্ষা করানো এবং কমিশন ভাগাভাগির কোনো নেটওয়ার্ক থেকে থাকে, তাহলে সেই নেটওয়ার্কে কারা রয়েছে? রোগী ধরার লোক কারা? হাসপাতালের ভেতরে তাদের সহযোগী আছে কি? কোনো কর্মচারী কি নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম বলেন? কোনো চিকিৎসক কি নিয়মিত রোগী নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠান? ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক বা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর আর্থিক যোগাযোগ আছে কি? রোগীপ্রতি কমিশন বা মাসিক ‘মাসোয়ারা’র কোনো হিসাব রাখা হয় কি? এসব প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলা ঠিক হবে না। কিন্তু যদি আর্থিক লেনদেনের নথি, ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লেনদেন, কমিশন রেজিস্টার, রোগী রেফারাল তালিকা কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়, তখন চিত্রটি অনেক পরিষ্কার হতে পারে। ‘যত গর্জে তত বর্ষে না’—তাই মুখের কথার চেয়ে দলিলই এখানে বড় কথা।


আরেকটি গুরুতর বিষয় হলো রিপোর্টে চিকিৎসকের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহারের প্রশ্ন। কোনো চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া তার নাম, পদবি বা স্বাক্ষর ব্যবহার করা হলে সেটি গুরুতর অনিয়মের বিষয় হতে পারে। তাই সন্দেহজনক রিপোর্ট পাওয়া গেলে রোগীর উচিত সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে কাছে রিপোর্টটি সত্যিই তিনি যাচাই করেছেন কি না নিশ্চিত হওয়া। কারণ একটি ভুল রিপোর্টের প্রভাব শুধু একটি কাগজে সীমাবদ্ধ থাকে না। ভুল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ভুল চিকিৎসা হলে রোগীর অর্থ, সময় এবং সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ—স্বাস্থ্য—ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।


এক ঢিলে দুই পাখি’ মারার মতো কেউ যদি একই সঙ্গে রোগী সংগ্রহ ও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তার প্রভাব পড়তে পারে পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর।


মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানের সামনে তাই প্রশ্নটি আরও বড়। এখানে প্রতিদিন যে বিপুলসংখ্যক রোগী আসেন, তাদের কতজন হাসপাতালের বাইরে পরীক্ষা করান? কেন করান? কে তাদের পাঠান? কোন কোন প্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি রোগী যাচ্ছে? সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে হাসপাতালের কারও কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না?


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করতে হলে কেবল অভিযোগ শুনলেই হবে না। প্রয়োজন গত কয়েক মাসের রোগী রেফারালের তথ্য, সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স, কর্মীদের তালিকা, মেশিনের নথি, পরীক্ষার মূল্যতালিকা, রিপোর্টের নমুনা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য। ‘পুকুর চুরি’ হয়েছে কি না জানতে হলে পুকুরের হিসাব দেখতে হবে। আর এখানেই অনুসন্ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা-হাসপাতালের ভেতরের কেউ যুক্ত কি না। যদি যুক্ত না থাকে, তাহলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত প্রকাশ্যে বলা-রোগীকে বাইরে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আর যদি কোনো কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও স্পষ্ট করা দরকার। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর মালিকদেরও জবাব দিতে হবে-তাদের লাইসেন্স কোথায়, চিকিৎসক কারা, টেকনোলজিস্ট কারা, মেশিনের কাগজপত্র কোথায় এবং রিপোর্টে স্বাক্ষরকারী বিশেষজ্ঞরা বাস্তবে কোথায় বসেন?


‘কথায় কথায় ঘি ঢেলে’ এই প্রশ্নগুলোর উত্তর চাপা দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এখানে বিষয়টি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়; বিষয়টি একজন রোগীর নিরাপত্তা। মুগদা মেডিকেলের গেট দিয়ে প্রতিদিন যে মানুষটি ঢোকেন, তিনি জানেন না হাসপাতালের ভেতের বা বাইরে কে তাকে কোথায় পাঠাবে। তিনি জানেন শুধু—তিনি অসুস্থ। তার হাতে যে রিপোর্ট তুলে দেওয়া হবে, সেটি সত্য-এই বিশ্বাসেই তিনি চিকিৎসকের কাছে ফিরে যাবেন। সেই বিশ্বাসের সঙ্গে যদি কেউ ব্যবসা করে, সেটি শুধু রোগীর সঙ্গে প্রতারণা নয়; এটি চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার ওপর আঘাত। তাই এখন সময় এসেছে প্রশ্নগুলো সামনে আনার-মুগদা মেডিকেলের চারপাশে গড়ে ওঠা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বৈধতা কী? কারা পরিচালনা করছে? কারা সেখানে কাজ করছে? রোগী কোথা থেকে আসছে? কারা রোগী পাঠাচ্ছে? কোনো কমিশন আছে কি? থাকলে কারা পাচ্ছে? কোনো মাসিক লেনদেন আছে কি? হাসপাতালের কোনো কর্মচারী জড়িত কি না? আর যদি সত্যিই কোনো সিন্ডিকেট থাকে, তার নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড কে?


‘দুধে দুধে ছাই’ হওয়ার আগেই এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। কারণ আজ মুগদা মেডিকেলের সামনে যে প্রশ্ন, কাল তা অন্য কোনো সরকারি হাসপাতালের সামনে দাঁড়াতে পারে। রোগীর অসহায়ত্বকে যদি ব্যবসার পুঁজি বানানো হয়, তাহলে ‘রোগীর সেবা’ শব্দটি কেবল সাইনবোর্ডেই থেকে যাবে।


এখন দেখার বিষয়-স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, হাসপাতাল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কি এই অভিযোগগুলো নথি দিয়ে যাচাই করবে, নাকি সবকিছু ‘দেখেও না দেখার ভান’ করে চলবে? শেষ প্রশ্নটি তাই সবচেয়ে সরল-রোগীর রোগ নিয়ে যারা খেলতে চায়, তাদের লাগাম কে টানবে? আর সেই লাগাম টানার দায়িত্ব যদি কারও হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই-এতদিন তা টানা হলো না কেন?

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Whatsapp
  • Linkedin
  • প্রিন্ট নিউজ
  • কপি লিঙ্ক
এ জাতীয় আরো খবর..