1. [email protected] : admi2019 :
info@deshertvusa.tv +8801979-343434
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি আন্তজাতিক খেলা বিনোদন প্রবাস আরও

শরীয়তপুরে পদ্মার গ্রাস: চোখের সামনে বিলীন ভিটেমাটি, স্থায়ী বাঁধের আকুতি নদীপাড়ের মানুষের

প্রতিবেদনঃ স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট টাইমঃ 15-08-2026 ইং
  • 13133 বার পঠিত
ad728

পদ্মা নদীর প্রমত্ত রূপ ও তীব্র স্রোতের কাছে একে একে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও বিদ্যুতের খুঁটি।

চোখের সামনে জীবনের শেষ সম্বলটুকু নদীতে তলিয়ে যেতে দেখে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকায় হঠাৎ নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় চারদিকে এখন কেবলই হাহাকার আর অনিশ্চয়তার ছাপ।

সাত দিনে ২০০ মিটার এলাকা বিলীন, আতঙ্কে ৫০০ পরিবার

গত সাত দিনে কাথুরিয়া এলাকায় ইটের রাস্তা, তিনটি বিদ্যুতের খুঁটি, সাতটি দোকানপাটসহ প্রায় ২০০ মিটার এলাকা পদ্মাগর্ভে তলিয়ে গেছে।

বর্তমানে পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে পালেরচর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এতে করে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাঝিরঘাট ও পালেরচর বাজারসহ আশপাশের প্রায় ৫০০ পরিবার চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীর ভেঙে ক্রমাগত পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি ও স্থানীয়রা সড়কের ইট খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

ইতোমধ্যে অন্তত ২৫টি বসতবাড়ি ও ৭টি দোকানপাট নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

“ত্রাণ চাই না, আমাদের স্থায়ী বাঁধ দিন”

ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের অভিযোগ, বর্ষা এলেই বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে সাময়িক চেষ্টার নাটক করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মজিদ ঘরামী ও ভিটেহারানো নাজমা বেগমের মতো অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, শীতকালে কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে কাজ শুরু করায় প্রতি বছর তাঁদের সম্বল হারাতে হয়।

স্থানীয়দের স্পষ্ট দাবি—তারা কোনো নগদ টাকা, শুকনো খাবার বা জিওব্যাগ চান না, তারা চান নদীর তীর রক্ষা বাঁধের স্থায়ী সমাধান

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বক্তব্য ও প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জাজিরার নাওডোবা থেকে পাথালিয়া কান্দি পর্যন্ত ১০.৬৭ কিলোমিটার নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ১ হাজার ১৩০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান জানান:

  • নদীতে পানি ও তীব্র স্রোত বাড়ায় হঠাৎ করেই নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

  • ১০.৬৭ কিলোমিটার প্রকল্পের মধ্যে প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশের কাজ ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

  • বর্ষা মৌসুম হওয়ায় মূল বাঁধের কাজ বন্ধ রেখে ডাইকে ব্লক তৈরির কাজ চলছে এবং কাথুরিয়া এলাকায় ভাঙন সামলাতে আপদকালীন জরুরি জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

তবে কাথুরিয়া এলাকার ১২ ও ১৩ নম্বর প্যাকেজে ফেলা জিওব্যাগের একটি বড় অংশ প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Whatsapp
  • Linkedin
  • প্রিন্ট নিউজ
  • কপি লিঙ্ক
এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728
ad728
ad728