সংবাদমাধ্যমকে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ না করে বরং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের কল্যাণে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তর-সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বলেন।
নতুন তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রতিটি কার্যক্রম অত্যন্ত স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব আমাদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।
এর পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং জাতীয় ঐক্যের ধারা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও আমাদের গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে।
এছাড়া দেশের কৃষ্টি-কালচার, ধর্মীয় মূল্যবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আমাদের যত গর্বের অর্জন রয়েছে, সেগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্বও এই মন্ত্রণালয়ের।
বর্তমান সময়কে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং সময় হিসেবে অভিহিত করে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শতভাগ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
মানুষের ভুলত্রুটি থাকতেই পারে, তবে নৈতিকতার প্রশ্নে সরকার অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। দেশের সার্বিক সেবা এবং জনগণের কল্যাণ সাধনই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
সংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে আন্দালিভ রহমান বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সংবাদমাধ্যমের সাহসী ভূমিকার কারণে দেশের মানুষ সরকারের বিভিন্ন
অনিয়ম, ব্যর্থতা এবং নির্যাতনের চিত্র জানতে পেরেছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলন চলাকালীন সংবাদকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, যা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না।
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী পরিষ্কার ভাষায় বলেন, ‘আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে, এই মন্ত্রণালয়ের মূল কাজ হলো নীতিমালার মধ্যে থেকে সহযোগিতা বা রেগুলেট করা, কিন্তু কোনোভাবেই তা নিয়ন্ত্রণ বা কন্ট্রোল
করা নয়।’
বিগত ১৭ বছরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাঠামোগত ক্ষতি ও নৈতিক অবক্ষয় ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ, সংসদ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে বিপর্যয় নেমে এসেছে, তা কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময়
লাগবে। এই প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি মেরামত (ড্যামেজ রিপেয়ার) এবং একটি স্বচ্ছ নতুন ব্যবস্থা (নিউ সিস্টেম) গড়ে তোলার ওপর আমাদের প্রধানত জোর দিতে হবে।
সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, মানুষের যেকোনো ভালো কাজের সঙ্গে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও অদৃশ্য আশীর্বাদ যুক্ত থাকে, যদি তার নিয়ত বা উদ্দেশ্য সৎ হয়।
সবশেষে কর্মকর্তাদের পেশাগত অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে তিনি এটিকে একটি যৌথ টিমওয়ার্ক হিসেবে উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজে আমলাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সরকারের প্রতিটি ভালো
উদ্যোগ ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।